সময়ের জনমাধ্যম

এল ক্লাসিকোয় এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে ২-১ গোলে

Last Updated on 6 hours by zajira news

স্পোর্টস ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: লা লিগায় বার্সেলোনার জয়রথ থামালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ক্যাম্প ন্যুতে তাঁর জোড়া গোলে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় ২-১ গোলে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

লিগে টানা ৯ ম্যাচ জয়ের পর এটাই বার্সার প্রথম হার। তাতে রিয়ালকে পেছনে ফেলে হলো না লা লিগায় সেরা শুরুর নতুন রেকর্ড।

ডান প্রান্ত থেকে ইয়ান দিওমান্দের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বক্সে অনিচ্ছাকৃত ভুল করেন বার্সা ডিফেন্ডার মার্তিন। তাঁর হালকা শট গিয়ে লাগে বাঁ পাশ দিয়ে ছুটে আসা এমবাপ্পের পায়ে। অনিচ্ছাকৃত টোকায় সেখান থেকে গোল পাওয়াটা তাঁর সৌভাগ্য। বার্সার বিপক্ষে ১১ ম্যাচে এমবাপ্পের ১৩তম গোল, ক্যাম্প ন্যুতেই ১০টি!

১১তম গোলটি পেতে এমবাপ্পেকে অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের ৮৭ মিনিট পর্যন্ত। তাঁর আগে ৬১ মিনিটে রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ছিল বার্সা।

এমবাপ্পের প্রথম গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল বার্সা। সেরা সুযোগটা পেয়েছিল পিছিয়ে পড়ার তিন মিনিট পরই। পেদ্রির দারুণ পাস পেয়ে ডান কোণায় লুনিনকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। বলটা কেন কাছের পোস্টের বাইরে মারলেন, সেটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভাববেন সম্ভবত ইয়ামাল নিজেই। সম্ভবত দ্বিধায় ছিলেন কোন পোস্টে মারবেন!

রাফিনিয়া দ্বিধা করেননি। এবারও বক্সের ডান দিকে পাসদাতা পেদ্রি। সামনে ডিফেন্ডার রেখেই নিখুঁত শটে ৬১ মিনিটে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। এবার লিগে ৯ ম্যাচে ১৩ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা রাফিনিয়া, এল ক্লাসিকোয় ৮ম ও মৌসুমে ১১ ম্যাচে ১৫তম গোল। রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরার আনন্দে তখন গর্জে উঠেছিল ক্যাম্প ন্যুর গ্যালারি। সেই গর্জন একদম নিশ্চুপ করে দিতে এমবাপ্পের সময় লেগেছে ২৬ মিনিট।

এল ক্লাসিকোয় ৭ ম্যাচে ৮ গোল কিলিয়ান এমবাপ্পের। একুশ শতকে এল ক্লাসিকোয় প্রথম ৭ ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি লিওনেল মেসির (৬ গোল)।

বের্নার্দো সিলভার বদলি এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার ডান দিক থেকে দেওয়া ক্রসে ফাঁকা পোস্ট পেয়ে যান এমবাপ্পে। সহজ শটে পেয়ে যান রিয়ালে নিজের ১০০তম (১১৬ ম্যাচ) গোল। এল ক্লাসিকোয় (৭ ম্যাচে) এমবাপ্পের এই ৮ম গোলেই শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের পর ক্যাম্প ন্যুতে প্রথম জয়ও পায় রিয়াল।

প্রথম গোলটি পাওয়ার পরপরই বার্সার পোস্টে বল না মারলে ১০১তম গোলটিও হয়তো পেতেন এমবাপ্পে। গোল পেতে পারতেন প্রথমার্ধেও। আরদা গুলেরের সঙ্গে আক্রমণে যুগলবন্দী হয়েছিল ভালো। গুলের পাস থেকে দুটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। তবে প্রথমার্ধে বার্সাই ভালো শুরু করেছিল।

ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে রাফিনিয়া ও ইয়ামাল ভালো সুযোগ থেকে বল মারেন পোস্টের বাইরে। গর্ডনের শট ঠেকান লুনিন। প্রথমার্ধে ৫৯ শতাংশ বল দখলে রেখে বার্সাই বেশি (৫) সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু স্বদব্যহার করতে পারেনি। আর এমবাপ্পে সেটাই করে থামিয়েছেন লিগে বার্সার জয়যাত্রা। লিগে ১০ ম্যাচে ১১ ও মৌসুমে ১৩ ম্যাচে ১৪ গোল হয়ে গেল এমবাপ্পের।

১০ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষেই রইল বার্সা। সমান ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় রিয়াল। আজকের জয়ে ছয় পয়েন্টের ব্যবধান তিনে নামিয়ে আনল মরিনিওর দল। ১০ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে এটা বার্সার দ্বিতীয় হার। গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির মাঠে হারে ৪-২ গোলে। সেটা এই মৌসুমে টানা ১১ জয়ের পর প্রথম হার। দ্বিতীয় হারের পর বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকের কপালে নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়বে। তবে মরিনিও থাকবেন মেজাজে।

রিয়ালে দ্বিতীয় মেয়াদে কোচ হয়ে ১৩ বছর পর এল ক্লাসিকোয় ফিরেই জয় পেলেন মরিনিও। সেটাও এমন ম্যাচে, যেখানে প্রতিপক্ষ দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় রিয়ালকে একটু পিছিয়ে রাখা হয়েছিল।