সময়ের জনমাধ্যম

চন্দ্রাভিযান শেষে চার নভোচারী ফিরলেন পৃথিবীতে

Last Updated on 16 hours by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন ।

আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাঁদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে।

সমুদ্রে অবতরণের পর আর্টেমিস-২-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ওরিয়ন বলেন, ‘কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি। চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।’

নভোচারীদের ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে একটি নৌযানে নিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’র মেডিক্যাল বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই জাহাজে হেলিকপ্টার প্যাড, চিকিৎসার সরঞ্জাম রয়েছে। চিকিৎসকেরা নভোচারীদের নাড়ির গতি, রক্তচাপ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন। পরে তাঁদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।

সমুদ্রে অবতরণের কিছু সময় পর নভোচারীদের প্রথমে ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে একটি নৌযানে নেওয়া হয়। এটিকে বলা হয় ‘ফ্রন্ট পোর্চ’। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাঁদের নৌবাহিনীর জাহাজে নেওয়া হয়।

চার নভোচারী বের হয়ে নৌযানে ওঠার পর হিউস্টনে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে উপস্থিত থাকা সবাই হাততালি দেন।

এর মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হলো এই রোমাঞ্চকর চন্দ্রাভিযান। ১০ দিনের সময়সীমা থাকলেও নাসা বলছে, ৯ দিন ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডেই এই অভিযান শেষ হলো। ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা।

মিশনটি একাধিক নতুন ইতিহাস গড়েছে। চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থানের সময় পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড (২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) ভেঙে দিয়েছে।

এ ছাড়া ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। নভোচারীরা এই চন্দ্রাভিযানে বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছেন। তাঁরা চন্দ্রপৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলক সরাসরি দেখেছেন।

আর্টেমিস-২ অভিযানটি ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন ফেলার নাসা-পরিকল্পনার একটি পরীক্ষামূলক ধাপ। নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স ও অ্যাপল টিভিতে ঐতিহাসিক এই প্রত্যাবর্তন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভোচারীদের পৃথিবীতে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি নভোচারীদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আর্টেমিস ২–এর অসাধারণ ও অত্যন্ত মেধাবী ক্রুদের অভিনন্দন। পুরো অভিযাত্রাই ছিল অসাধারণ, আর অবতরণ ছিল একেবারে নিখুঁত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার জন্য এর চেয়ে গর্বের আর কী হতে পারে! খুব শিগগিরই হোয়াইট হাউসে আপনাদের সবার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি। আমরা আবারও এমন অভিযান চালাব। আর তার পরের লক্ষ্য মঙ্গল গ্রহ!’

Reendex

Must see news