সময়ের জনমাধ্যম

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, সরিয়ে নেওয়া হলো দুই লাখের বেশি মানুষ

Last Updated on 11 hours by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ফ্রান্স ও স্পেনে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্পেন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দাবানলে হাজার হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে এবং বহু এলাকায় জরুরি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে তিনটি পৃথক দাবানল একত্রিত হয়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে অন্তত ৬৩ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আরও প্রায় ২০ হাজার মানুষ লকডাউনের আওতায় রয়েছেন।

স্পেনের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো এই দাবানলকে ‘অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহ, প্রবল বাতাস এবং একাধিক স্থানে আগুন লাগার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিলো জানিয়েছেন, অনেক এলাকায় আগুনের তীব্রতার কারণে দমকল বাহিনীর পক্ষে সরাসরি অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট (ইউএমই) মোতায়েন করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাদ্রিদ অঞ্চলে অন্তত ৬ হাজার হেক্টর এবং আভিলা প্রদেশে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমি আগুনে পুড়ে গেছে। আটটি পৌরসভা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আভিলার বুরগোহোন্দো এলাকায় জ্বলতে থাকা আরেকটি বড় দাবানল মাদ্রিদের আগুনের সঙ্গে যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৮৬ বছর বয়সী বাসিন্দা একোলোজিও কাবরেরা বলেন, ‘আগুনের সামনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে সেটি আপনাকে গ্রাস করে ফেলবে। জীবনে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনও দেখিনি।’

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের ঘোষণা দিয়ে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলেও দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেখানে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জিরন্দ অঞ্চলে প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে এবং অন্তত ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়েছে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ন্যুনেজ জানিয়েছেন, দাবানলটি দ্রুত বোর্দো শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে অন্তত ৫০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন ব্যবস্থার সহায়তা চেয়েছেন। সহায়তার অংশ হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং প্রবল বাতাস দাবানলের বিস্তারকে আরও ত্বরান্বিত করছে। ইউরোপীয় বন অগ্নি তথ্য ব্যবস্থা (ইএফএফআইএস) জানিয়েছে, চলতি বছরে গত দুই দশকের গড়ের তুলনায় ইউরোপে ইতোমধ্যেই বেশি বনভূমি দাবানলে পুড়ে গেছে।

ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে দক্ষিণ ইউরোপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তথ্যসূত্র: বিবিসি