Last Updated on 44 seconds by zajira news
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি, জাজিরা নিউজ: মালয়েশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থার (মাইআইএমএমএস) হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অনুমোদিত ১ হাজার ৩০৬টি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)।
একই সঙ্গে এসব পাসধারী বিদেশি কর্মীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান শুক্রবার (৩১ জুলাই) মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (এসপিআরএম) সদর দপ্তরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মাইআইএমএমএস (মাইআইএমএমএস) সিস্টেমে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যেসব অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অবৈধভাবে অনুমোদন করা হয়েছে, সেগুলো থেকে সরকারের কোনো রাজস্ব আসেনি। তাই এসব কর্মী পাস অবিলম্বে বাতিল করা হবে।
জাকারিয়া শাবান বলেন, ‘আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে অনিয়মের মাধ্যমে অনুমোদিত সব অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিল করা। এরপর সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকরা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা শনাক্ত করা হবে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের অবস্থান এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না, কারণ এতে তারা পালিয়ে যেতে পারে।’
তিনি আরও জানান, এসব বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়া শাবান বলেন, ইমিগ্রেশন বিভাগ দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইমিগ্রেশন বিভাগের ভেতরের কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতি সম্ভব নয়। কারণ, অভিযুক্তরা বিভাগের কম্পিউটারে বিশেষ ধরনের ‘ডংল’ (ইউএসবি ডিভাইস) ও নির্দিষ্ট সফটওয়্যার স্থাপন করে প্রশাসনিক (অ্যাডমিন) আইডি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে অবৈধভাবে কর্মী পাস অনুমোদন দেন।
তার ভাষায়, ‘যারা সিস্টেম সম্পর্কে জানতেন এবং অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার ছিল, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ ঘটনা ঘটতে পারে না।’
তিনি জানান, সাইবার সিকিউরিটি মালয়েশিয়া-এর সঙ্গে যৌথ ফরেনসিক তদন্তে দেখা গেছে, ইমিগ্রেশন সিস্টেমটি বাইরে থেকে হ্যাক করা সম্ভব হয়নি। বরং অভ্যন্তরীণ অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার ব্যবহার করেই সিস্টেমের অপব্যবহার করা হয়েছে।
এর আগে মালয়েশিয়ার হারিয়ান মেট্রো জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইমিগ্রেশন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিশেষ ধরনের ডংল ব্যবহার করে মাইআইএমএমএস সিস্টেমে প্রবেশ করে অবৈধভাবে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অনুমোদন দেয়। সাইবার নিরাপত্তা দুর্বলতা পরীক্ষা, নেটওয়ার্ক বাইপাস বা যোগাযোগ সংকেত অনুকরণের মতো কাজে ব্যবহৃত বিশেষ হার্ডওয়্যার হিসেবেও এ ধরনের ডংল পরিচিত।
জাকারিয়া শাবান জানান, গত মে মাস থেকেই ইমিগ্রেশন বিভাগ এ চক্রের তৎপরতা শনাক্ত করেছিল। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ‘অপস ক্র্যাক’ (অপস ক্র্যাক) পরিচালনা করে চক্রটিকে ভেঙে দেওয়া হয়।
মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কমিশনার দাতুক সেরি আব্দ হালিম আমান জানান, অভিযানে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, তিনজন বিদেশি নাগরিক, ইমিগ্রেশন বিভাগের চার কর্মকর্তা, বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার দুই কর্মকর্তা এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী এসব সন্দেহভাজনকে বৃহস্পতিবার বিকেল ২টা থেকে ৫টার মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দপ্তর এবং পেনাং ইমিগ্রেশন দপ্তর থেকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ২০১১ সালের কর্মী কোটার অপব্যবহার করে কোনো ধরনের লেভি পরিশোধ ছাড়াই ১ হাজার ৩০৬টি ভুয়া অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস ইস্যু করেছে। এতে মালয়েশিয়া সরকারের প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।


