সময়ের জনমাধ্যম

মালয়েশিয়ায় গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি নিহত, গ্রেপ্তার ‘মদ্যপ’ সেনা কর্মকর্তা

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত বাংলাদেশি তরুণ মুজাহিদ মিল্লাদ (ইনেসেটে)

Last Updated on 9 hours by zajira news

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি, জাজিরা নিউজ: মালয়েশিয়ায় এক সেনা কর্মকর্তা মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর সময় ভুলপথে ঢুকে পড়েন ওই কর্মকর্তা। তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একজন বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নিহতের চাচা মহিবুল হাসান (৫০) জানান, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে ই-হেইলিং গাড়িতে থাকা অবস্থায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ফোর্ড ফিয়েস্তা গাড়ি তাদের ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান মুজাহিদ।

জানা যায়, স্ত্রী নাফিসা তাবাসসুম আদিবাকে নিয়ে পর্যটন-বিষয়ক ভিডিও তৈরির কাজে দ্বিতীয়বারের মতো মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন মুজাহিদ। দুই বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতি দেশে পেশাদার ট্রাভেল ব্লগার হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ৩১ বছর বয়সী ওই সেনা কর্মকর্তা তার ফোর্ড ফিয়েস্তা গাড়িটি নিয়ে ভুল পথে ঢুকে পড়েন এবং বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পেরোদুয়া আলজা এমপিভিকে (ই-হেইলিং) মুখোমুখি ধাক্কা দেন।

ঘটনার সময় ই-হেইলিং গাড়িটিতে দুই বাংলাদেশি যাত্রী ছিলেন, যারা কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফিরছিলেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় গাড়ির মাঝের সারিতে বসা ২২ বছর বয়সি এক বাংলাদেশি যুবক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

কুয়ালালামপুর হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে মহিবুল হাসান ক্ষোভ ও আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘যদি মদ্যপই থাকে, তবে সে গাড়ি চালাচ্ছিল কেন? আইন অনুযায়ী এখন তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়, আমি তা দেখতে চাই।’

কুয়ালালামপুর ট্রাফিক তদন্ত ও এনফোর্সমেন্ট বিভাগের প্রধান সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ জামজুরি মোহাম্মদ ঈসা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোর ৫টা ৩৮ মিনিটে তারা দুর্ঘটনার খবর পান। অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন সেনা কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ফোর্ড ফিয়েস্তা চালক সেনা কর্মকর্তা ও তার গাড়িতে থাকা ৩৬ বছর বয়সী এক স্থানীয় নারী যাত্রীও আহত হয়েছেন। ঘাতক চালকের শ্বাস-প্রশ্বাসের পরীক্ষায় অ্যালকোহলের উপস্থিতি মিলেছে, যা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি। তার বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন ১৯৮৭-এর ৪৪ (১) ধারায় মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের পুলিশি তদন্তে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।