Last Updated on 39 mins by zajira news
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোম্বর) জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী প্রচারে ইরানের প্রেসিডেন্ট পদের সমালোচনা করতে গিয়ে মুসলিম বিশ্বে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছেন।
জর্জিয়ার ডাল্টনে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা তো জানেনই, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে যদি আপনার মনে দ্বিধা থাকে, তবে কেবল “মোহাম্মদ” বলে ডাক দিন। এতে ওই ব্যক্তির নাম সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। “হ্যালো, মোহাম্মদ”। আমি বহু বছর ধরে এটা করে আসছি এবং আমি কখনোই ভুল প্রমাণিত হইনি।’
মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ সবচেয়ে সাধারণ পুরুষ নামগুলোর একটি। মুসলিমরা প্রায়শই ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নামানুসারে তাঁদের ছেলেদের নাম রাখেন।
জর্জিয়ার ডাল্টন মিউনিসিপাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত সমাবেশে ইরান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এমন আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে প্রচার চালাচ্ছিলেন।
রিপাবলিকান দলের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’ ট্রাম্প এ কথা বলার পর একাধিক ‘মোহাম্মদ’ নামের ব্যক্তির কাছে কাল্পনিকভাবে জানতে চান, তারা এই পদটি চান কি না।
মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০২৪ সাল থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে ডাল্টনের ওই সমাবেশে ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁর এই বিদ্রূপাত্মক কথা শুনে তেমন একটা জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
অধিকার সংগঠনের কর্মীরা ও মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো ট্রাম্পের এ ধরনের কথাবার্তার বারবার সমালোচনা করে আসছে।
তাঁদের মতে, তিনি মুসলিম, অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীকে খাটো এবং বিদ্রূপ করেন।
আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে নেমে ট্রাম্প এই ধরনের বক্তব্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন; বিশেষ করে সোমালি ও মার্কিন মুসলিমদের বিরুদ্ধে তিনি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন।
এঁদের মধ্যে রয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্রেটিক দলের সিনেটর প্রার্থী আবদুল আল-সায়েদ এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমর।
ইলহান ডেমোক্র্যাট দলের প্রতিনিধি হিসেবে মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও তিনি প্রার্থী। একসময় সোমালি শরণার্থী হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানের আগ্রাসন চালায়। তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার অজুহাত দেখিয়ে ওই আগ্রাসন শুরুর সাত মাস পর ট্রাম্প আবারও তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন দমন এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ বন্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

