সময়ের জনমাধ্যম

সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া

পুরস্কার গ্রহণ করছেন বাংলাদেশের তরুণ হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। ছবি : সংগৃহীত

Last Updated on 11 hours by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে চার বাংলাদেশি হাফেজই পুরস্কার অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রথম এবং তিনজন তৃতীয় স্থান লাভ করেছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পাঁচটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার চতুর্থ গ্রুপে পুরুষদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন বাংলাদেশের মুহাম্মদ জাকারিয়া।

একই গ্রুপে নারীদের মধ্যে তৃতীয় স্থান লাভ করেন রাবেতা বিনতে রমজান। পুরস্কার হিসেবে মুহাম্মদ জাকারিয়া পেয়েছেন এক লাখ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল এবং রাবেতা বিনতে রমজান পেয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল।

এ ছাড়া প্রতিযোগিতার তৃতীয় গ্রুপে পুরুষ ও নারী উভয় ক্যাটাগরিতে তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশের শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান এবং মুসফিরা বিনতে মাহমুদ। তারা দুজনেই এক লাখ ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল করে পুরস্কার পেয়েছেন।

বুধবার (১৯ অগাস্ট) পবিত্র মসজিদুল হারামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সাউদ বিন মিশাল। প্রতিযোগিতার পাঁচ গ্রুপে মোট ৫০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

সৌদির আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জয়ী বাংলাদেশি। ছবি: সংগৃহীত

মুহাম্মদ জাকারিয়া নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ের আর-রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার এবং শেখ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী রাজধানীর ডেমরার মারকাযুল মাদীনা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী। রাবেতা বিনতে রমজান উত্তরার তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদরাসা এবং মুসফিরা বিনতে মাহমুদ পুরান ঢাকার ওয়ারির সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজ মাদরাসার শিক্ষার্থী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশি হাফেজদের বাছাই করে তাদের সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে চার হাফেজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

বিজয়ী হাফেজদের অভিনন্দন জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে চারজন অংশগ্রহণ করে সকলেই পুরস্কৃত হয়েছেন। একজন প্রথম, বাকিরা তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এ অর্জন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্মান ও গর্বের। বাংলাদেশ কুরআনের পাখিদের উর্বর ভূমি, এ অর্জন তারই স্মারক।’

বিজয়ী হাফেজদের অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও অসুস্থতার কারণে যেতে পারেননি ধর্মমন্ত্রী। তার নির্দেশে হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলামের নেতৃত্বে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে গিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানান। এ সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী, ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) মো. মাহবুব আলম উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মমন্ত্রী জানিয়েছেন, খুব শিগগির বিজয়ী চার হাফেজকে মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে।