সময়ের জনমাধ্যম

৮,৬৭২টি অননুমোদিত কোরআন সমুদ্রে বিসর্জন করল মালয়েশিয়া

Last Updated on 9 hours by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: পবিত্র কোরআনের ৮,৬৭২টি কপি এবং সংশ্লিষ্ট উপকরণ যথাযথ ধর্মীয় ও আইনি মর্যাদায় সমুদ্রের গভীরে বিসর্জন দিয়েছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ক্লাং বন্দরের অদূরে ১৩ নটিক্যাল মাইল গভীরে মালয়েশীয় মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির জাহাজের মাধ্যমে প্রায় ১.৫ টন ওজনের কোরআনের অবশিষ্টাংশের ব্লক সমুদ্রগর্ভে ফেলার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল বলেন, কোরআনের প্রতিটি হরফ ও হরকত অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং সামান্য ভুলও এর অর্থ পরিবর্তন করতে পারে। তাই আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৪৪টি তদন্ত শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল জানিয়েছেন, মুদ্রণজনিত ভুল বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোরআনের কপিগুলোর পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিসর্জনের আগে এগুলোকে প্রথমে টুকরো করা, পিষে ফেলা এবং ভস্মীভূত করে ব্লকে পরিণত করার মতো কঠোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, যা আদালতের অনুমতি এবং কোরআন মুদ্রণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নির্দেশনা মেনে পরিচালিত হয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন) জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১,৭৫৮টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ৬,৬২০টি অননুমোদিত কোরআনের কপি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব কপির বাজারমূল্য প্রায় ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার রিঙ্গিত।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নজরদারি শুধু মুদ্রিত কোরআনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হওয়া ডিজিটাল ও অডিও সংস্করণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ কোরআনের কপিগুলো পোর্ট ক্ল্যাং উপকূলের গভীর সমুদ্রে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে নিমজ্জিত করা হয়। প্রায় ২৭ লক্ষ রিঙ্গিত মূল্যের এসব কপি নির্দিষ্ট ব্লকে সংরক্ষণ করে বিসর্জন দেয়া হয়, যা দেশটিতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থের মর্যাদা রক্ষার স্বীকৃত পদ্ধতি।

জনসচেতনতা বাড়াতে সরকার ‘জম এক্সচেঞ্জ আল-কোরআন’ কর্মসূচিও চালু করেছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৬ হাজারের বেশি পুরনো বা অননুমোদিত কোরআনের পরিবর্তে নতুন ও অনুমোদিত কপি বিতরণ করা হয়েছে।

সরকার বলছে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে কোরআনের পবিত্রতা রক্ষা এবং সঠিক সংস্করণ প্রচারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।