Last Updated on 4 hours by zajira news
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি হাসপাতালে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ৪০০ জনকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটি।
তবে পাকিস্তান এ দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনাগুলোতেই হামলা চালিয়েছে।
তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, কাবুলের ‘ওমর আসক্তি নিরাময় হাসপাতালে’ স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৯টার দিকে (১৬:৩০ জিএমটি) এ হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, ২ হাজার শয্যার এ হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪০০-এ পৌঁছেছে এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে, আগুন নিয়ন্ত্রণ ও মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত ফুটেজে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দমকলকর্মীদের আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ৩১ বছর বয়সী ওমিদ স্টানিকজাই বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, হামলার আগে তিনি আকাশে যুদ্ধবিমান টহল দিতে দেখেছেন। তিনি বলেন, আমাদের চারপাশে সামরিক ইউনিট ছিল। তারা বিমান লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর বিমানটি বোমা ফেলে এবং আগুন ধরে যায়। নিহত ও আহত সবাই বেসামরিক মানুষ বলে জানান ওমিদ স্টানিকজাই।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া পোস্টে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, পাকিস্তান আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, আফগান সরকার এই হামলাকে ‘সব স্বীকৃত নীতির পরিপন্থী এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, কাবুলে কোনো হাসপাতালকে টার্গেট করা হয়নি।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় ‘সুনির্দিষ্টভাবে সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ টার্গেট করা হয়েছে, যাতে কোনো বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি না হয়। এসব স্থাপনা নিরীহ পাকিস্তানি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। সূত্র: আল জাজিরা


