সময়ের জনমাধ্যম

ইউরোপ জয়ের পরও বাংলাদেশ দলের তিন দুর্বলতা তুলে ধরলেন ডুলি

বাংলাদেশ ফুটবল দল

Last Updated on 3 mins by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: সান মারিনোর বিপক্ষে তাদেরই মাঠে গতকাল রাতে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের প্রথম জয়। বাংলাদেশে দলের কোচ হিসেবে টমাস ডুলিরও প্রথম জয় এটি।

তবে ডুলি কিন্তু তাতে আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না। ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আনন্দের পাশাপাশি দলের কিছু দুর্বলতা ও ভুলও তুলে ধরেন এই কোচ।

ফিনিশিংয়ে দুর্বলতায় প্রচুর সুযোগ নষ্ট করা, এর পাশাপাশি ‘ফার্স্ট টাচ’, পাসিং ও রিসিভে পুরো নিখুঁত ছিল না বাংলাদেশ দল। রক্ষণ থেকে খেলা তৈরির সময়ও সহজেই বল হারিয়ে ফেলেছে। এই তিনটি বিষয়ে ঘাটতি চোখে পড়েছে ডুলির।

সামগ্রিক পারফরম্যান্সে খুশি হলেও সুযোগ হাতছাড়া করার পুরোনো অভ্যাসটি যে বাংলাদেশের এখনো রয়ে গেছে, তা মনে করিয়ে দেন ডুলি, ‘আমাদের প্রধান দুর্বলতা হলো গোল করার জন্য আমাদের এখনো প্রচুর সুযোগের প্রয়োজন হয়।’

‎খেলোয়াড়দের বল নিয়ন্ত্রণে ঘাটতিও কোচের নজর এড়ায়নি। ফুটবলে একদম মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশকে যে আরও খাটতে হবে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন কোচ, ‘মাঝেমধ্যে আমাদের ফার্স্ট টাচ ঠিকঠাক হয় না। তাই আমি দলের একদম বেসিক বা মৌলিক বিষয়গুলো, যেমন পাসিং ও রিসিভিং নিখুঁত করার জন্য অনুশীলন শুরু করাব।’

‎সান মারিনোর মতো শরীরনির্ভর ফুটবল খেলা দলের বিপক্ষে মাঝমাঠ কিংবা রক্ষণভাগে বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো কত বিপজ্জনক হতে পারত, সেটার কৌশলগত দিক ভালোভাবে জানা বাংলাদেশ দলের এই কোচের। রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠার সময় খেলোয়াড়দের সহজ কিছু ভুলের সমালোচনাও করেন ডুলি, ‘রক্ষণভাগ থেকে বল নিয়ে ওপরে ওঠার সময় আমরা কিছু সহজ বল হারিয়েছি, যা মাঠে একেবারেই কাম্য নয়। আমি শুরু থেকেই খেলোয়াড়দের এ বিষয়ে সতর্ক করেছি।’

অবশ্য বল হারানোর পেছনে গত দুই দিনে দলে যোগ দেওয়া নতুন চার খেলোয়াড়ের সঙ্গে বাকিদের অনুশীলনের ঘাটতি ও বোঝাপড়ার অভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ডুলি। তাঁর চোখে এই ভুলগুলো স্থায়ী কোনো সমস্যা নয়। ডুলির মতে, এগুলো সহজেই শুধরে নেওয়া সম্ভব, যদি খেলোয়াড়দের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন আনা যায়।

‎দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও খেলার ধরন পুরোপুরি বদলে ফেলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন হামজা-শমিতদের এই কোচ, ‘আমাদের চিন্তাভাবনা বদলাতে হবে, তারপর আমাদের অনুশীলনের ধরন বদলাতে হবে এবং সবশেষে আমাদের খেলার শৈলী পরিবর্তন করতে হবে। আর এটা পুরোপুরি সম্ভব।’