Last Updated on 29 seconds by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নেতৃত্ব পাওয়া বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে প্রায় দুই দশক পর বিএনপি যে অঙ্গীকার নিয়ে দেশ পরিচালনার ভার নিয়েছে, প্রথম ছয় মাসে তা কতটা পূরণ করতে পেরেছে?
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে চাপে থাকা সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘অগ্রগতির’ কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।
আর বিরোধী দল বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনে রদবদল নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছে।
আর ‘স্থিতিশীল পরিবেশ’ ফিরিয়ে আনা সরকারের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ছয় মাসে ‘সহনশীলতার পরিচয়’ দিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী বলছেন, “উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির দুরবস্থা ঠিক করতে তারেক রহমানের সরকারের জন্য ছয় মাস সময় যথেষ্ট নয়।”
তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের চলমান সংকট কাটাতে সরকারকে আরো বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউট-বিআইডিএসের সাবেক এই মহাপরিচালক।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনের ইতি ঘটার পর দেশের হাল ধরা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেয়।
তবে ইউনূস সরকারের দেড় বছরের ‘মব’ সন্ত্রাস, মাজারে হামলা, ভাঙচুর, ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা যেমন মানুষকে হতাশ করেছে, তেমনি নির্বাচন আয়োজন নিয়ে ওই সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নানা সময়ের বক্তব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। সংস্কার প্রশ্নেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধিতা ছিল।
১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যায়। তবে নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পথে ফেরানো, উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা।
১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার শপথ নেওয়ার পরদিন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা নির্ধারণের কথা জানা যায়। ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতি উদ্দেশে ভাষণ দেন।
বিএনপি সরকার কীভাবে দেশ চালাতে চায়, সেই বার্তা দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেছিলেন, “দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।”
মন্ত্রিসভার বৈঠক ও প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসের অগ্রাধিকারের আভাস মেলে। সরকারের অগ্রাধিকার তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও প্রধানত সাত-আটটি বিষয়কে সামনে রেখে সরকারের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনা ছিল ‘সক্রিয়’ এবং তড়িৎ।’
এর মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তা, দুর্নীতি বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা কাটানো, সেবামুখী প্রশাসন আর ব্যবসা-বাণিজ্যে ছন্দ ফেরানো প্রাধান্যের তালিকায় থাকার কথা জানা যায়।
এর সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ‘ই-হেলথ’ কার্ড প্রকল্প, খাল খনন, ক্রীড়াবিদ, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ উপসনালয়ের প্রধানদের ভাতা দেওয়াকে অগ্রাধিকার তালিকা রাখা হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমে মোটাদাগে প্রধানমন্ত্রী ‘সন্তুষ্ট’। তবে মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম মনিটরিংয়ে তিনি ‘সিরিয়াস’। তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন সরকারপ্রধান।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি গনমাধ্যমকে বলেন, “সরকারের প্রধান প্রধান যেসব অঙ্গীকার ছিল—সেসব ‘ফ্ল্যাগশিপ’ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ শেষ করে চলতি অর্থবছরেই বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
“দ্বিতীয়ত, নির্বাচনি ইশতেহার ও পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলপত্র অনুযায়ী সবগুলো মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা পুনঃসজ্জিত করা হয়েছে।” ছয় মাস আগে শপথ নিয়ে কাজ শুরু করার পরই রমজান মাস পায় সরকার। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ তখন সরকারের অগ্রাধিকারে ছিল।
রমজানে বিদ্যুতের দুর্ভোগ সামাল দিতে পারলেও ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলার পর জ্বালানি তেলের সরবরাহে টান পড়তে শুরু করে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের পরও সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। অবশেষে এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সরকার। কিন্তু সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগে ফের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে পড়েছে দেশ।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ার পর গ্যাস সংকট তীব্র হয়। ঘাটতির মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই সপ্তাহ পর টার্মিনালটি আংশিক চালু করার পর সামিটের এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ঠিক হলেও এলএনজি সরবাহের ঘাটতি মেটেনি। এর সঙ্গে লোডশেডিংয়ের কারণে জনভোগান্তির পাশাপাশি শিল্প উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে, কারখানা বন্ধের খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে।
শনিবার এক আলোচনা সভায় দেশে গ্যাসের সংকট ‘কয়েক দিনের মধ্যে অনেকাংশে কমে’ আসবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জ্বালানি সংকটে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের জন্য ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেছেন সরকারপ্রধান।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে রমজান পেয়েছি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। একটা বিধ্বস্ত, ভঙ্গুর অবস্থায় দায়িত্বে এসে আমরা নতুন উৎসের দিকে নজর দিয়েছি।”
তিনি বলেন, “এখন যে সংকট চলছে, তার জন্য এই সরকার দায়ী না, আমরা দ্রুত সমাধানের উপায় খুঁজছি, আলাপ করছি।”
এসব পরিকল্পনার মধ্যে নতুন কূপ খনন; বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড-বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি; বিভিন্ন সংস্থা ভেঙে নতুন সংস্থা বাড়ানো; পরিশোধন ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির আধুনিকায়ন; পিএসসি (উৎপাদন বণ্টন চুক্তি) চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার কথা বলেছিল মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে পিএসসি চূড়ান্ত করে বঙ্গোপসাগরের ব্লকগুলোতে গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
এসব অগ্রগতি সম্পর্কে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “এসব পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছি। আমরা কিছুদিন পর এটা নিয়ে বসব, তারপর আপনাদের জানাবো।” উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। বাজেটেও মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরা হয়। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী জাকির হোসেন বলেন, “বাজারে সবজির দাম খানিকটা কমছে। মাছের দাম অনেক বাড়তি। সয়াবিন তেলের দামও বেশি, ডিমের দামও অনেক।”
দুর্নীতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও ছিল সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায়। কিন্তু সাড়ে মাস ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে চেয়ারম্যান ও কমিশনারের পদ শূন্য। চলতি বছরের ৩ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেন। এরপর নতুন কমিশন গঠনে পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি হলেও এখনো কমিশন নিয়োগ হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রদবদল, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো, পদোন্নতির ঘটনায় প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর সেবামুখী প্রশাসন আর ব্যবসা-বাণিজ্যে ছন্দ ফেরানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনে রদবদলে হাত দেয়।
এরই মধ্যে পুলিশ ও জনপ্রশাসনে বেশকিছু রদবদল এসেছে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের নিয়োগ করা হয়েছে। পদোন্নতি, প্রত্যাহার, বদলির ঘটনায় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সরকারর সমালোচনা করে আসছে।
গেল জুনে দলের কর্মপরিষদের সভায় দলের আমির ও বিরোধী দল নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সরকার প্রতিটি স্তরে দলীয়করণ করছে।
অন্তত চারটি মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেখ হাসিনার পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তবর্তী সরকারের সময় থেকেই প্রশাসনে ‘অস্থিরতা’ রয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা গনমাধ্যমকে বলেন, “কাকে কখন, কোথায় বদলি করা হয়, কাকে কোন ‘ট্যাগ’ দেওয়া হয়—এই দুশ্চিন্তায় অনেকে কাজেও মনোযোগ দিতে পারছেন না। যে কারণে প্রকল্প উপস্থাপন থেকে শুরু করে নানা কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়েছে।”
এ প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “সিভিল সার্ভিসে, সেটা শিক্ষা বলেন, স্বাস্থ্য বলেন, সবকিছুতেই… এক্ষেত্রে আমি ‘ডিস্টার্বড’ যে, প্রচুর লোকজনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হচ্ছে, এখনো হচ্ছে। ওএসডি করা হচ্ছে।
“এটা তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কিছুটা ‘কনফ্লিক্ট’ করে। তাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল তারা মেধার ভিত্তিতে সিভিল সার্ভিস গড়ে তুলবে,” বলেন তিনি।
এ অভিযোগের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি গনমাধ্যমকে বলেন, “‘পারফরম্যান্সের’ মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রশাসনে পরিবর্তন বা রদবদল হচ্ছে। প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত রাখার জন্য সরকার নীতি গ্রহণ করেছে।”
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কথা বলে সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের জন্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে চিঠি দিয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে ‘পাইপ বোমা’, ‘প্রেশার কুকার’ বোমা, হাত বোমা, সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশের তরফে উগ্রবাদী ও জঙ্গিবাদী তৎপরতা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। চলতি মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবদনে দেশে জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।
এছাড়া খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ডাকাতি, দস্যুতাসহ বিভিন্ন ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি নিয়ে গেল জুনে সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে ৬০৫টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ, ২৯৪টি ছিনতাই এবং ৯০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলা এবং ২ হাজার ২১৪টি চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই এমপি বলেন, একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩ হাজার ৪৯৬টি। ‘ধর্ষণের’ শিকার হয়েছে ৭৮ থেকে ১০২ জন, ‘গণধর্ষণের’ শিকার ৩০ থেকে ৩৬ এবং ‘ধর্ষণের’ শিকার শিশুর সংখ্যা ৪৯ থেকে ৭১।
এরপরও যে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, সে কথা বলা যাচ্ছে না। পুলিশ সদর দপ্তরের জুলাই মাসের প্রতিবেদন বলছে, ওই মাসে সারা দেশ খুনের ঘটনা ঘটেছে ২৯৮টি। ডাকাতি ও দস্যুতা ২১৩টি, চুরি ৮৭২টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ২৩৩৬টি, অপহরণ ৭২টি, পুলিশের হামলা ৪২টি, অস্ত্র উদ্ধার ১৩৬টি, বিস্ফোরক উদ্ধার ৬টি ও মাদক উদ্ধারের ৬৩৮৩টি ঘটনা ঘটেছে।
সরকার গঠনের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা কাটানোর চেষ্টা ছিল অগ্রাধিকারের একটি ছিল বিএনপির।
তবে গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি দল বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
গেল বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ছাত্রশিবির। সংগঠনটির বিরুদ্ধে গুপ্ত রাজনীতির অভিযোগ তোলাকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়, ছড়ায় উত্তেজনা। সংঘর্ঘ হয় চট্টগ্রাম কলেজে।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যোলয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান গনমাধ্যমকে বলেছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর জুলাই অভ্যুত্থানের ‘মালিকানা’ নিয়ে বিরোধের ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ জড়িয়েছে।
তিনি বলেছেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মালিকানা নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একধরনের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। তার প্রভাব ছাত্র রাজনীতিতে পড়েছে।”
অধ্যাপক তানজীম বলেছেন, “একসময় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগ আধিপত্য বিস্তার করেছিল, এখন শিবির যেভাবে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। সেখানে অন্য দলগুলো আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছে। শিবিরের ধরণটা ভিন্ন।”
ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির র্নিবাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে রোববার কিশোরগঞ্জে জাতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। পর্যায়ক্রমে ৪ বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যেক সুবিধাভোগী মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগের থেকেই বিভিন্ন জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে এর কার্যক্রম শুরু হবে। জুনে সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিং পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৩৬টি ইউনিটের ৬০,০৪৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল কৃষক কার্ড। ন্যায্যমূল্যে সার ও কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ সুবিধাসম্বলিত এই কার্ড দেশের প্রতিটি কৃষকের হাতে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
সরকারপ্রধান গেল ১০ জুন সংসদকে জানিয়েছেন, কৃষক কার্ডের প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০টি জেলার ১১ উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে সরকার।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, প্রথম ছয় মাসে অন্তত সাত লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল। এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করেছে মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন গনমাধ্যমকে বলেন, “কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রত্যেক মাসেই কোনো না কোনো উপজেলায় কার্ড বিতরণ করা হবে।”মন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেক মাসেই কৃষক কার্ডের লট যাবে। এভাবে ধীরে-ধীরে বাকি কার্ডও বিতরণ করা হবে। খুবই সুক্ষ্মকাজ, তাই সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়।”
চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়সহ মোট ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের বরাদ্দের প্রায় দ্বিগুণ।
স্বাস্থ্যকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ ও ‘বিনা চিকিৎসায় কোনো মৃত্যু নয়’-এ নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক নাগরিককে ‘ই-হেলথ’ কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে সরকারের।
গেল ১০ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক জন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় পাঁচ জেলা যথাক্রমে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদীর জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ড সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। যদিও এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি সরকার।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী গনমাধ্যমকে বলেন, “এডিবির (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) অর্থায়নে হেলথ কার্ডের বিষয়ে আমরা একটা প্রজেক্ট নিয়েছে৷ প্ল্যানিং কমিশনে দেওয়া আছে সেটা একনেক থেকে পাশ হলেই মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হবে।”
নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি শুরু করে বিএনপির সরকার। গেল ১৬ মার্চ ৫৪ জেলায় ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় সাহাপাড়া খালের ১২ দশমিক ২০ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের মাধ্যমে তিনি তার বাবা জিয়াউর রহমানের পথ ধরে এই কর্মসূচি শুরু করেন।
জুনে সংসদে এ বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেছেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৬৬৬টি খাল খনন, পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান। খনন বা পুনঃখননকৃত খালের মোট দৈঘ্য ৯৬৫.০৪ কিলোমিটার। প্রথম দফায় ১৪০০ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ গনমাধ্যমকে বলেন, “খাল খননে যে টার্গেট নিয়েছিলাম, সেখানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ছিল ৩৭৩ কিলোমিটার, সেটা শতভাগ পূরণ হয়েছে।” এছাড়া লক্ষ্য অনুযায়ী ১৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় পুরোটাই খনন হয়েছে, বলেন প্রতিমন্ত্রী।
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করার পরিকল্পনার কথা বলেছে সরকার। অর্থাৎ প্রতি বছর ৫ কোটি, পুরো প্রকল্পের ব্যয় ১৫০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ২৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর ব্লক বাগানে ৪ কোটি চারা রোপণের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে সরকারের তরফে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি তুলে ধরতে গিয়ে বলেছেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ চারা রোপণ করা হবে। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ছয় মাসে শুধু স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্তত ১ কোটি ২৫ লাখ গাছ লাগানোর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
বিএনপির ইশতেহারের ভিত্তিতে সরকারের অগ্রাধিকারে ছিল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও উপাসনালয়ের পুরোহিতদের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বলছে, ভাতা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখের বেশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের নির্দিষ্ট হারে মাসিক ভাতা এবং বার্ষিক উৎসব ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি এই টাকা দিচ্ছে সরকার।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, পাঞ্জেগানা ও জামে মসজিদের তালিকা চেয়েছে সরকার। সারাদেশে ক্রমান্বয়ে এই সম্মানি দেওয়া হবে।
গেল মার্চ মাসে জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রীড়া কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে। এ কার্ডের আওতায় মাসিক এক লাখ টাকা পাবেন ক্রীড়াবিদরা। মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
সম্প্রতি সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে প্রধানন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ কথা বলেছেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই কমিটি বিগত ছয় মাসের পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্দেশিকা প্রস্তুত করছে।
সেই কমিটির একজন সদস্য গনমাধ্যমকে বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের কার্যক্রম মনিটরিং করছেন ‘সিরিয়াসলি’। তিনি সকল মন্ত্রণালয়ের হিসাব-নিকাশ রাখছেন। এই ছয় মাসেও তিনি এটা করেছেন। ভবিষ্যতে এটা আরও সক্রিয়ভাবে জারি থাকবে।”
কমিটির ওই সদস্যের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিশেষ এই কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে যে সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে—সেগুলো কীভাবে দূর করে সময়বদ্ধ এবং ব্যয় সাশ্রয় করা যায়, তার জন্য একটি রূপরেখা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি ‘ড্যাশবোর্ড’ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে প্রতিমূহূর্তে প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি মনিটর করা যায়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এই ‘ড্যাশবোর্ড ডিজিটালি প্রদর্শিত হবে।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন তো ওনাদের মহাসচিব (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) করে দিয়েছেন যে ‘কোনো পরিবর্তন নাই’। এটা তাদের আত্মস্বীকৃত ব্যর্থতার জবানবন্দি। সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে সবখানে সংকট।
“গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেলসহ সবকিছুই আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। এক্ষেত্রে সরকার পরিচালনার যে সক্ষমতা দরকার সেটা অনুপস্থিত। গোটা পরিস্থিতির মধ্যেই একটা ব্যর্থতা লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে।”
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গনমাধ্যমকে বলেন, “বিদ্যুৎ নাই, গ্যাস নাই, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, এমন বিষয়ের মধ্য দিয়ে মানুষ যাচ্ছে, আমরাও যাচ্ছি।” তার মতে, “সরকার উল্টোপথে হাঁটছে।”
তারেক রহমানের নতুন সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ খানিকটা উদার। তাদের মতে, দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ ফেরানো বিএনপির বড় ‘কৃতিত্ব’। কারো মতে, রাজনৈতিকভাবে আরও সহনশীল হতে হবে সরকারকে।
কিন্তু অর্থনীতির দুর্গতি রয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি তা কাটিয়ে উঠতে কী করতে হবে, তাও বলেছেন অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী। তিনি বলছেন, “এই সরকার যখন ক্ষমতা নেয়, তখন তো অর্থনীতি একেবারে ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। সেটিইও তারা উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। অর্থনীতি এতটাই জটিল ও দুরাবস্থার মধ্যে ছিল যে, এই ছয় মাসে খুব একটা সমস্যার সমাধান সম্ভব না, এটি অল্প সময়।”
তার মতে, এই সময়ের মধ্যেও অর্থনীতিতে কিছু কিছু বিষয়ে ভালো হয়েছে-তা হল বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ। এটা এখনো বাড়ছে, ৩২ বিলিয়ন ডলারের উপরে গেছে। সেই সঙ্গে বিনিময় হার স্থিতিশীল আছে। মূল্যস্ফীতি এখন খুব একটা বেশি না কমলেও দুর্ভোগ বাড়াছে না।
তবে বিআইডিএসের সাবেক এই মহাপরিচালক বলছেন, “ছয় মাসে অর্থনীতির সার্বিক দুর্গতিটা কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি।” তিনি মনে করেন, কিছু জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে, যেমন রাজস্ব আদায়, বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও ব্যাংক খাতের প্রতি আস্থা বাড়ানো।
ব্যাংক খাত কিছুটা ঠিক হওয়ার পথে থাকলেও আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারলে সার্বিক দুর্গতি শেষ হবে বলে মনে করেন মোস্তফা কে মুজেরী। তিনি বলেন, “তাহলেই অর্থনীতি আগের মত স্বাভাবিক হয়ে ফিরবে।”
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু সাদেক বলেন, “ছয় মাসে সরকারকে বিচার করার সুযোগ নাই। এটা কঠিন যে, এটা অত বেশি সময় না।”
তিনি মনে করেন, সরকার আন্তরিক। তবে সরকারের আরও দূরদর্শী হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ যেসব দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, সেসব সমাধানে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে।
আবু সাদেক বলেন, “দ্রুত গ্যাস, বিদ্যুতের সমাধান দরকার। সাধারণ জনগণ সরকারকে সমর্থন করে, কিন্তু এটা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতা দরকার।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুশতাক হোসেনের দৃষ্টিতে, “বিএনপি সরকারের শুরুটা ভালো।” তিনি বলেন, “যে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গণভুত্থান পরবর্তীতে; অনেক আশা নিয়ে মানুষ গণঅভ্যুত্থান করেছে, কিন্তু যারা বিবেকবান, তারা ধর্মীয় উগ্রবাদীদের কার্যকলাপে আশাহত হয়েছে।
“সেখান থেকে একটা, আপনার অপেক্ষাকৃত স্বস্তির জায়গায় এসেছে নির্বাচনের পরে। মানে অপেক্ষাকৃতভাবে একটা স্থিতিশীল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এসেছে। সেটা হল, নির্বাচনের পরবর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব।”
সরকারের মূল্যায়নে ছয় মাস সময়ের কর্মকাণ্ড যথেষ্ট নয় মন্তব্য করে সাবেক আমলা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “সূচনাতে তাদের ভালো-মন্দ মেশানো দুইটা জিনিসই আছে। তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান। ওনার রাজনীতি ছিল সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে। স্বাধীনতার পর সাংবিধানিকভাবে যাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তিনি কিন্তু তাদের উপর থেকে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিলেন।
“তিনি মনে করতেন, সকলেরই রাজনীতিতে থাকা দরকার। তো, একই দর্শনে এই দলটাকে এখন চলা উচিৎ।” আলী ইমাম বলেন, “যাদের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে, তাদের বিরাট দোষ বা ভুল আছে; এই সরকার কিন্তু এমনি এমনি আসে নাই। তাদের তরফেও (আওয়ামী লীগ) কিন্তু বাড়াবাড়ির জন্য ক্ষমা চাওয়া হয় নাই।
“ভারতে কিন্তু ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী হেরে গেলেন। উনি কিন্তু পরাজিত হয়ে ভারতবাসীর কাছে ক্ষমা চাইয়া…শুরু করলেন, তো এখানে তো আমরা এটার অনুপস্থিতি দেখছি।” (এ প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন মঈনুল হক চৌধুরী, আবু তালেব, আব্দুস সবুর লোটাস) সূত্র; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

