Last Updated on 4 days by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: নোয়াখালীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নোয়াখালীর অনেকগুলো ন্যায্য দাবি আছে। আমি সেই দাবিগুলো এখানে পেয়েছি। নোয়াখালীবাসী বিভাগ চায়, সিটি কর্পোরেশন চায়। আমরা ক্ষমতায় গেলে ইনসাফের মাধ্যমে আপনাদের এই প্রাণের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান নোয়াখালীর উন্নয়নে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘নোয়াখালী বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনের দাবির পাশাপাশি হাতিয়া-কোম্পানীগঞ্জ-সুবর্ণচর নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ, কোম্পানীগঞ্জ-ছোট ফেনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ এবং সোনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হবে।’
সুবর্ণচরের এক নির্যাতিতা মায়ের স্মরণে তিনি বলেন, ‘সুবর্ণচরে একজন দুখিনী মা, যাকে হায়েনারা কষ্ট দিয়েছিল ধানের শীষে ভোট দেয়ার কারণে, ওই মায়ের সম্মানে সেখানে আমরা নির্বাচিত হলে পৌরসভা করব ইনশাআল্লাহ।’
যুব সমাজ ও বেকারত্ব নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না, আমরা দেশ গড়ার কারিগরের হাত গড়ে দিতে চাই। ১১ দলের প্রার্থীদের অধিকাংশের বয়স ৪৫-এর নিচে, যা বার্তা দিচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ হবে যুব সমাজের।’ তিনি বলেন, ‘সেদিন প্রত্যেকটা যুবক-যুবতী বলবে, আমিই বাংলাদেশ। আমাকে দেখে নাও বাংলাদেশটা কেমন।’
সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। পে-কমিশনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যাতে তাদের টেবিলের নিচে হাত ঢুকাতে না হয়। এরপরও যদি কেউ সততার রাস্তা ছেড়ে দেয়, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ চাঁদাবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনই ছেড়ে দাও, হারাম পেটে ঢুকিও না। যদি না শোনো, তবে আমাদের গরম মূর্তি দেখতে বাধ্য হবে।’
নির্বাচন ও প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ দুটি ভোট হবে। প্রথম ভোটটি হবে সংস্কার ও আজাদীর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট। আর দ্বিতীয় ভোটটি হবে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে।’
জনসভায় তিনি নোয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল্লাহ, নোয়াখালী-৩ আসনের মাওলানা বুরহান উদ্দিন, নোয়াখালী-৪ আসনের মো. ইসহাক খন্দকার এবং নোয়াখালী-৫ আসনের বেলায়েত হোসেনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং নোয়াখালী-২ আসনের সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া ও নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থীর হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন।
এর আগে সকাল ৯টায় জেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে জনসভা শুরু হয়। জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


