সময়ের জনমাধ্যম

চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব দিল যুক্তরাষ্ট্র

Last Updated on 25 seconds by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানকে একটি ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে শান্তি আলোচনার এই খবরের মধ্যেই ওই অঞ্চলে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন। খবর রয়টার্স ও নিউইয়র্ক টাইমসের

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে ‘ইউএসএ টুডে’ জানিয়েছে, যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে এই প্রস্তাবনাটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ১৫ দফা দাবিনামায় ঠিক কী কী শর্ত রয়েছে, তা এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত রয়েছে।

শান্তি প্রস্তাবের সমান্তরালে সামরিক শক্তিও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ‘৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন’ থেকে অন্তত ১০০০ থেকে ৩০০০ প্যারাট্রুপার বা ছত্রীসেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে। উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে এসব সেনাকে যে কোনো মুহূর্তে রণক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এই বাহিনী আগে থেকেই সেখানে মোতায়েন থাকা কয়েক হাজার নৌ-সেনা ও যুদ্ধজাহাজের বহরের সঙ্গে যুক্ত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানি নেতাদের সাথে ‘খুবই ভালো এবং ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে।

তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুতার একটি ‘সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি’ হতে পারে এবং ইরান একটি চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে আছে। এমনকি ইরান তেল-গ্যাস সংক্রান্ত একটি বড় ‘উপহার’ দিয়েছে বলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরাসরি আলোচনার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। তারা একে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেন। গত এক মাসে এই যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।