সময়ের জনমাধ্যম

ছবি গুলো অফিসে বুঝিয়ে দিতে হবে, যদি মারা যাই, তাহলে কিভাবে দেশবাসীকে খবরটি জানাতে পারবো- আব্দুল গনি

কোটা আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ফটোসাংবাদিক আব্দুল গনি। ফাইল ছবি: জাজিরা নিউজ

Last Updated on 2 years by zajira news

নিউজ ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: দায়িত্ববোধ এমনি এক জিনিস যা অনেক সময় নিজের জীবন থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ন হয়ে ওঠে। এই কথাটি যেন আবার প্রমানিত হল দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় কর্মরত ফটোসাংবাদিক আব্দুল গনির মাধ্যমে।

গত (১৯ জুলাই) শুক্রবার কোটা আন্দোলনের বিক্ষোভকারীদের ছবি ও খবর কভার করতে এসে ফটোসাংবাদিক আব্দুল গনি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর আহত হলে তার সহকর্মীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে।

ফেসবুক পোস্ট থেকে আব্দুল গনি’র কথাগুলো হুবহু তুলে ধরা হল:

কোটা আন্দোলনের ছবি ও ছবির তথ্য সংগ্রহের জন্য টানা কয়েক দিন দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে গেলাম। আন্দোলনের মাঝে কখনো কখনো মনে হয়েছে, এই মুহূর্তে যদি মারা যাই, তাহলে কি দেশবাসীকে খবরটি জানাতে পারবো? হঠাৎ তাই হলো, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দুনিয়াটি অন্ধকার হয়ে গেল, মৃত্যুর মুখ দেখে এলাম। কিছুক্ষণ পরে আমি হাসপাতালে। হাসপাতালে মুখ দিয়ে কথা বলতে পারছিলাম না। সাথে থাকা প্রিয় ভাই বন্ধুরা আমাকে সান্তনা দিয়ে বলছিল যেন আমি সুস্থ হয়ে যাবো। কিন্তু আমি ওদের বললাম, কাগজ কলম দিতে। আমি তখন অল্প একটু লিখতে পারছিলাম, আর লিখতে পারছিলাম না, বাদবাকি ইশারায় বললাম।

গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফটোসাংবাদিক আব্দুল গনি। ছবি: জাজিরা নিউজ

আমাকে এন্টিবায়োটিক আর ব্যথার ইনজেকশন দিতে বলো ডাক্তারকে, আমি অফিসে যাবো, ছবি গুলো অফিসে বুঝিয়ে দিতে হবে। তখন আমার সাথে থাকা প্রিয় ভাই বন্ধুরা আমার উপর রাগ হয়ে বাসায় যেতে বলো।

মনে মনে ভাবলাম, এখনো তো বেঁচে আছি। তাহলে আমার চোখে আন্দোলনের যতটুকু ঘটনার ধরা পড়েছে, সেই ছবির বিষয়গুলো অফিসে দিয়ে আসি, দেশ ও জাতির জন্য।

তবে যতটুকু নিজের জীবনের সাথে কষ্ট করে ও, একটুও কষ্ট মনে হয়নি, তার চেয়ে বেশি কষ্ট পেতে হলো অফিসে দায়িত্বরতদের ছবি গুলো বুঝিয়ে দিতে। তবু সেই অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলাম ছবি গুলো বুঝিয়ে দিতে। অবশেষে আর না দাঁড়িয়ে থাকতে পেরে, অফিস থেকে বের হয়ে আসলাম। এই ব্যথা কখনো আঘাতের থেকে বেশি হবে না।

এখনো আমাদের দেশের নিউজ পত্রিকা গুলো ছবির ক্যাপশনের সাথে ছবির তোলার ব্যক্তির নাম দিতে চায় না। নিউজ পত্রিকার লোকেরা তাদের ব্যক্তিগত যুক্তি দিয়ে বলে, সব ছবিতে নাম দেওয়া সম্ভব না। বিষয়টি বড় কষ্টদায়ক লাগে তাদের যুক্তি শুনে।

আমরা ফটোসাংবাদিকরা যখন কোনো ঘটনার মাঝখানে কাজ করি, তখন সেই ছবিটি ঘটনার মুহূর্তেই তুলতে হয়।

টিভির লাইভ দেখে বয়ান দেওয়া যায়, লেখা যায়, কিন্তু বাস্তবতার ছবি কখনো টিভির লাইভ থেকে হয় না।

ফটোসাংবাদিক আব্দুল গনি শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষন করছেন হাসপাতালের ডাক্তার । ছবি: জাজিরা নিউজ

এই সাংবাদিক জীবনে আল্লাহ তাআলার রহমতের সাথে সব সময় ভাই ও বন্ধুদের প্রতিনিয়ত সাহায্য পেয়েছি। একইভাবে এবার আন্দোলনের জন্য অসুস্থ হয়ে থাকার পরেও, প্রতিনিয়ত চিকিৎসার জন্য খোঁজ-খবর নিয়ে যাচ্ছেন ভাই ও বন্ধুরা।

প্রিয় ভাই ও বন্ধুরা, তোমাদের জন্য রইল অনেক অনেক ভালোবাসা।