সময়ের জনমাধ্যম

জামায়াত আমির ও এনসিপি আহ্বায়কের বাসায় গিয়ে দেখা করলেন তারেক রহমান

রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন

Last Updated on 15 hours by zajira news

জাজিরা নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আগামী দিনের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিরোধী দলের প্রধান দুই নেতার বাসায় গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় তিনি প্রথমে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায়। এরপর যান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি নতুন উদাহরণ। অতীতে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে পরস্পরের সাথে কথা বলা, মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ ছিলÑ সেখানে জয়ী হওয়ার পর বিরোধী দলের নেতার বাসায় যাওয়া রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতির সূচনা বলা যায়।

তারেক রহমান এদেশে যে নতুন ধারার রাজনীতির ঘোষণা দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার আগেই গতকাল তিনি তা শুরু করলেন।

সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বসুন্ধরা সিটিতে জামায়াত আমিরের আবাসিক কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে দলীয় নেতাদের নিয়ে স্বাগত জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি আমার আবাসিক কার্যালয়ে এসেছিলেন। তার এই আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি তার এই আগমনকে স্বাগত জানাই এবং প্রত্যাশা রাখি, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।

জামায়াত আমির বলেন, আমি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সাথে মিলে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। আমাদের আলোচনায় তিনি আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। আমি এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, কোনো নাগরিকই যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয়।

জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে আমরা নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করব, তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আমরা আপসহীন থাকব। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে; কিন্তু যেখানেই জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকব। আমাদের উদ্দেশ্য সঙ্ঘাত নয়; বরং সংশোধন; বাধা দেয়া নয়; বরং পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থিতিশীলতার সাথে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তারেক রহমানের সাথে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জামায়াত আমিরের সাথে ছিলেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ ছাড়া এনসিপি আহ্বায়কের সঙ্গে ছিলেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলম।