সময়ের জনমাধ্যম

ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

Last Updated on 2 months by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এ পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এ আদেশ দেন। আদালতে গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়া অন্যরা হলেন, লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান ও ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারী।

এ মামলায় অভিযুক্ত ছয় আসামির মধ্যে ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের আইনজীবী স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে সিমিন রহমানসহ তিন আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরোয়ানা তামিল বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
ভাই-বোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লতিফুর রহমানের অপর কন্যা শাযরেহ হক গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় লতিফুর রহমানের কন্যা সিমিন রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ করা হয়।

মামমলাটি তদন্ত করে গত ১১ জানুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সিমিন রহমানসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকায় বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। মিটিংয়ের এজেন্ডা ছিল, আগে মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক সিগনেচারের অনুমোদন এবং লতিফুর রহমান কর্তৃক শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে অনুমোদন।

এই মিটিংয়ে হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হয়েছে। হাজিরা শিটে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও মিটিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করেন।

এই বোর্ড মিটিংয়ে তৃতীয় এজেন্ডার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ছয়শ শেয়ারের মধ্যে তার বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি, ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে চার হাজার ৭২০টি করে শেয়ারসহ সর্বমোট ২৩ হাজার ৬শ’টি শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদী দাবি করেন, এই ধরনের বোর্ড মিটিং ওই তারিখে অনুষ্ঠিত হয়নি।

তদন্তকালে কোম্পানির বর্তমান পরিচালককে ওই বোর্ড মিটিং ও রেগুলেশনের কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হলে আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তদন্তে বোর্ড মিটিংয়ের আগে কোনো ই-মেইল অথবা ডাকযোগে কোনো নোটিশ বা চিঠির কপি পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া আরজেএসসিতে (যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর) জমাকৃত শেয়ার হস্তান্তরে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন সিমিন রহমান। চার্জশিটে বলা হয়েছে, গত ১৩/০৬/২০২০ তারিখে ট্রান্সকম লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্র আরজেএসসিতে জমা দেওয়া হয়। গত ১৭/০৮/২০২০ তারিখে শেয়ার হস্তান্তর হলেও আরজেএসসি নিয়ম অনুযায়ী শেয়ার হস্তান্তরের ফি পরিশোধ না করে বিলম্বে গত ০২/০৯/২০২০ তারিখে শেয়ার হস্তান্তরের ফি পরিশোধ করা হয়েছে।

এই শেয়ার হস্তান্তর জমা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা কোনো পক্ষই আরজেএসসিতে উপস্থিত ছিলেন না। শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলাকালে শেয়ার গ্রহীতা অর্থাৎ আসামিদের পক্ষে শুধু অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নিয়ম হচ্ছে, শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা উভয় পক্ষকে সশরীরে উপস্থিত থেকে আরজেএসসির প্রতিনিধির সম্মুখে উভয় পক্ষকে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার লঙ্ঘন।

এ ছাড়া ২০২০ সালে ভাই-বোনের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে বেশির ভাগ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার জন্য সিমিন গ্রুপ অব কোম্পানির নথিপত্র ও পারিবারিক ডিড অব সেটেলমেন্ট তৈরি করেন। এজন্য সিমিন রহমান দুটি ভুয়া স্ট্যাম্প এফিডেভিট ব্যবহার করে সেখানে ছোট বোন শাযরেহ হকসহ বাবা, ভাই ও অন্যদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে ট্রান্সকমের বেশির ভাগ শেয়ার ট্রান্সফারের দলিল তৈরি করেন এবং এগুলো আরজেএসসিতে দাখিল করেন সিমিন। শাযরেহ হকের নামে আরজেএসসিতে সিমিনের করা এফিডেভিটের নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে সৃজনকৃত বলে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, জাল সন্দেহ হওয়ায় দুটি স্ট্যাম্পের সত্যতা নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি প্রতিবেদন চান আদালত। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ভেন্ডর থেকে এই স্ট্যাম্প দুটি সরবরাহের তথ্য রয়েছে, ওই ভেন্ডরের লাইসেন্স ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়। তিনি ২০২৩ সালের স্ট্যাম্পকে অসদুপায়ে সংগ্রহ করে আসামিপক্ষকে ২০২০ সালের ৩ মার্চ নিজ স্বাক্ষরে সরবরাহ করেন।