Last Updated on 3 hours by zajira news
জাজিরা নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে প্রথম দিনই বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে যাত্রা করল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ।
বিএনপির প্রবীণ সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পিকার নির্বাচিত করে এ সংসদ পরিচালনার ভার দিয়েছেন এমপিরা। তার সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন কায়সার কামাল।
সাতবারের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আর কায়সার কামাল ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে।
সংসদে নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় তাদের সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হচ্ছে। সে কারণে বিএনপির সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খানকে মন্ত্রিসভায় আনা হয়েছে। সংসদ ভবনেই তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ নিয়েছেন।
রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশনের প্রথম দিন দেশি বিদেশি বিশিষ্টজন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিহত এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন এবং বিএনপির এক নেতার নামও শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করে নেওয়া হয়।
সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়নসহ সংসদের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতাও নিয়ম মাফিক সারা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
কিছুটা নাটকয়ীতা তৈরি হয় রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের এমপিদের হট্টগোল ও ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে। অবশ্য তাতে তেমন কোনো চমক দেখছেন না রাজনীতির বিশ্লেষক সাব্বির আহমেদ। তার ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় ওয়াকআউটের আভাস আগেই দিয়ে রেখেছিল জামায়াত। আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ ধরনের চর্চা নতুন কিছু নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক বলছেন, যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিএনপি ও জামায়াতের ‘সমঝোতার ভিত্তিতে’ হয়েছে বলেই তার মনে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। চব্বিশের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রায় ২০ মাস পর নতুন সংসদের সূচনা হল।
অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। সংসদ সদস্য এই প্রথম তিনি অধিবেশনে দিলেন এবং প্রথম দিনই বসলেন সংসদ নেতার আসনে।
অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে না থাকায় এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় কারাগারে থাকায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। ওই একই কারণে বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রথম দিনের অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদ নেতা তারেক রহমান তার নাম প্রস্তাব করলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামী নেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তা সমর্থন জানান। পরে টেবিল চাপড়ে সংসদ সদস্যরা এতে সম্মতি দেন।
অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার নির্বাচন করা হয়। প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ভোলা–৩ আসনের সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন এবং হুইপ রাকিবুল ইসলাম তা সমর্থন করেন। অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় কণ্ঠভোটে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন।
এরপর ডেপুটি স্পিকার পদে নেত্রকোণা–১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করেন হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার। হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান তা সমর্থন করলে কণ্ঠভোটে তিনিও নির্বাচিত হন। পরে সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করান।
জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছিল, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে। সে অনুযায়ী সরকারি দল বিএনপি বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বুধবার বলেছিলেন, জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে তখনই বিরোধী দল ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ করবে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন দেওয়া হয় এদিন।
ঢাকা–৮ আসনের মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা–২ আসনের গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নরসিংদী–১ আসনের আব্দুল মইন খান, কুমিল্লা–৬ আসনের মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী এবং রংপুর–২ আসনের এটিএম আজহারুল ইসলাম এই তালিকায় রয়েছেন।
স্পিকার নির্বাচনের পর তার সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশন শুরু হলে খালেদা জিয়াসহ দেশি বিদেশি বিশিষ্টজন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিহত এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবদুস সোবহান ও এ কে এম ইউসুফ নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব ওঠে। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান। তিনি বিএনপির সাবেক এমপি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও যুক্ত করে নেন।
এরপর প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয় এবং নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) মোনাজাত পরিচালনা করেন।
নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, কাসেম আলী, সাঈদী, সোবহান এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের মত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ‘প্রমাণিত হওয়ায়’ তাদের দণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয় ট্রাইব্যুনালের রায়ে।
তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সোবহান এবং আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত সাঈদী কারাগারে মারা যান। আর ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাকি ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির এ কে এম ইউসুফও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। বিচার শেষ হওয়ার আগেই তিনি কারাগারে মারা যান।
ওয়াকআউট রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে:
নতুন সংসদ বসার প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি অধিবেশনে ভাষণ দেন, এটাই নিয়ম। তবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির দাবি ছিল, আওয়ামী লীগের সময় দায়িত্ব পাওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যেন সংসদে ভাষণ না দেন। তবে সরকারি দল বিএনপি তাতে একমত ছিল না।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে যখন ভাষণ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া হল, বিরোধী দলের আসনে থাকা জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি চলবে না’ লেখা লাল রঙের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করলে প্রচলিত রীতিতে সংসদ নেতা ও সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যদের একটি অংশ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিজেদের আসনে বসে থাকেন।

বিউগলে জাতীয় সংগীত বাজতে শুরু করলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সংসদের কর্মকর্তারা জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সদস্যদের দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তখন কেউ কেউ দাঁড়ালেও কয়েকজন সদস্য বসে ছিলেন। তবে এসময় জামায়াত জোটের সদস্যদের প্রতিবাদ বন্ধ রেখে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদে তার ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
রাষ্ট্রপতি ভাষণে যা বললেন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যে ভাষণ দিলেন, তাতে মিশে থাকল ভাগ্যের পরিহাস।
ভাষণের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, “যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল নেতার অবদানকেও আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।”
বিএনপি জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করে এলেও আওয়ামী লীগ তা সব সময় প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে এখন বিএনপির ভাষাতেই জিয়ার নাম নিতে হল। তাকে বার বার বলতে হল, আওয়ামী লীগ সরকার ছিল ‘ফ্যাসিস্ট’। দুর্নীতির জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করতে হল।
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে বাংলাদেশ যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করা দুর্নীতির ধারণা সূচকে কয়েকবার ‘দুর্নীতির শীর্ষে’ ছিল, সে বিষয়ে বিএনপির ব্যাখ্যা শোনা গেল রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কণ্ঠে।

তিনি বলেন, “দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সরকারের ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে ২০০১ সালের জুন মাসে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল। ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ প্রণয়ন করে। এর ফলে বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পায়।
“২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়, তার অনেক আগেই বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এবারও দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে বর্তমান সরকারের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।”
বিএনপি সরকার তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে দেশের জন্য কী কী করবেন, তার বিস্তারিত ফিরিস্তি রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে দেন। তিনি ভাষণ শেষ করেন ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন অতীতে ‘জয় বাংলা’ বলে বক্তব্য শেষ করতেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ শেষে তিনি ‘জয় বাংলা’ বলেননি।
অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে গেলেও রাষ্ট্রীয় কোনো আয়োজনে তার বক্তব্য দিতে দেওয়ার সুযোগ হয়নি। নির্বাচনে জিতে বিএনপির নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর গত ৬ মার্চ প্রথম কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মো. সাহাবুদ্দিন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে জাতীয় পাট দিবসের ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শেষ হয় বিএনপির ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ দিয়ে, যা নিয়ে সেদিনও আলোচনা হয়।
১৩৩ অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য উত্থাপন:
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ অধিবেশনের প্রথম দিনই অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংসদ কার্যকর না থাকায় সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের অধীনে এই অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল।
সংবিধান অনুযায়ী, যেকোনো অধ্যাদেশ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে সেগুলো পাস হতে হয়। আর তা না হলে সেগুলোর আইনি বৈধতা থাকে না।
সংসদে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উত্থাপনের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। কমিটি এই বিলগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় এই ১৩৩টি অধ্যাদেশের তালিকা প্রকাশ করেছে।
১. বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
২. জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৩. উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
8. স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ ৫. স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৬. শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৭. বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৮. বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
৯. জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১০. পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১১. সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪
১২. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৩. বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ ১৪. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৫. বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৬. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৭. বাংলাদেশ ল অফিসারস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪
১৮. মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
১৯. The Excises and Salt (Amendment) Ordinance, 2025
২০. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫
২১. International Crimes (Tribunals) (Amendment) Ordinance, 2025
২২. বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৩. শেখ রাসেল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৪. শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৫. বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৬. বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৭. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৮. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
২৯. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩০. শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা, (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩১. বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩২. পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলি) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৩. পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৪. সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৫. Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 ৩৬. ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৭. International Crimes (Tribunals) (Second Amendment) Ordinance, 2025
৩৮. সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৩৯. গ্রামীন ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪০. জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪১. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪২. সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৩. সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
88. বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৫. অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৬. জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৭. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৮. নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৪৯. নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫০. অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫১. Protection and Conservation of Fish (Amendment) Ordinance, 2025
৫২. আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৩. Code of Criminal Procedure (Amendment) Ordinance, 2025
৫৪. সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৫. মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৬. ভোটার তালিকা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৫
৫৭. জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৫৮. Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025
৫৯. বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬০. স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ৬১. স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬২. স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৩. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ৬৪. স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ৬৫. গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ৬৬. উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৭. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৬৮. নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ৬৯. অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় আইন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ৭०. International Crimes (Tribunals) (Third Amendment) Ordinance, 2025
৭১. সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭২. Civil Courts (Amendment) Ordinance, 2025
৭৩. Representation of the People (Amendment) Ordinance, 2025
৭৪. মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৫. কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৬. আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৭. জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৭৮. ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০১৫
৭৯. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮০. জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮১. আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮২. বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৩. মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৪. গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৫. বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৬. ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৭. রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৮. স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ, ২০২৫
৮৯. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯০. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯১. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯২. Representation of the People Order (Second Amendment) Ordinance, 2025
৯৩. পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৪. বৈদেশিক অনুদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৫. সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৬. দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৭. ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫
৯৮. বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৬
৯৯. বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০০. বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০১. Registration (Amendment) Ordinance, 2026
১০২. মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৩. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৪. আইনগত সহায়তা প্রদান (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৫. বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৬. বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৭. বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৮. বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১০৯. ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১০. রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১১. বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১২. ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৩. রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৪. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৫. জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৬. মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৭. বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১১৮. Protection and Conservation of Fish (Amendment) Ordinance, 2026
১১৯. বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২০. ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২১. Registration (Second Amendment) Ordinance, 2026
১২২. বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৩. ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৪. বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৫. বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৬. জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৭. তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৮. বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬
১২৯. কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১৩০. নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬
১৩১. Negotiable Instruments (Amendment) Ordinance, 2026
১৩২. Bangladesh House Building Finance Corporation (Amendment) Ordinance, 2026
১৩৩. বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ, ২০২৬
কার্যপ্রণালী বিধি মানার কড়া বার্তা
নামাজের বিরতির পর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ, এটাই হোক আমাদের মূলমন্ত্র।”
মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন সময়ে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা স্মরণ করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করার কথাও তিনি বলেন।
নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুত্বে সংসদের মাইকে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। স্পিকার হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য চালিয়ে যান এবং জোহরের নামাজের জন্য ২০ মিনিটের বিরতি ঘোষণা করেন।
দায়িত্বের প্রথম দিনই শোকপ্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মুখে পড়তে হয় নতুন স্পিকারকে।
অধিবেশনের বিভিন্ন পর্যায়ে সংসদীয় রীতিনীতি মানার আহ্বান, কার্যপ্রণালী বিধিমালা অনুসরণের কথা স্মরণ করানো এবং সদস্যদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে সংসদ পরিচালনায় দৃঢ় অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিষয়ে আলোচনায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির বক্তব্য শেষ করতে বলার পরও তিনি বক্তব্য চালিয়ে গেলে পরে স্পিকার সংসদ সদস্যদের কার্যপ্রণালী বিধিমালা পড়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, “কার্যপ্রণালী বিধি প্রত্যেক সংসদ সদস্যের জন্য বাইবেলের মতো। এটি অনুগ্রহ করে আপনারা মনোযোগ সহকারে পড়বেন, বিশেষ করে যারা নবীন সদস্য।”
সংসদীয় আচরণবিধির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “স্পিকার যখন কোনো সদস্যের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন, সেই সদস্য তখন নিজের সিটে বসে পড়বেন। এটি ভবিষ্যতে আপনারা পালন করবেন। এটাই সংসদীয় রীতিনীতি।”
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দিতে এলে বিরোধী দলের সদস্যরা যখন প্রতিবাদ শুরু করলেন স্পিকার তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া সংবিধান অনুযায়ী বাধ্যতামূলক একটি প্রক্রিয়া এবং সংসদের রেওয়াজের অংশ।
প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষে স্পিকার সংসদের চলমান অধিবেশন আগামী ১৫ মার্চ সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন কেমন হল? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, “খুব বেশি ব্যতিক্রমী তেমন কিছুই হয়নি। যেটা হল, অ্যাজ ইউজুয়াল।”
বিএনপির আগের শামনামলের সঙ্গে তুলনা করে এবার সংসদ পরিচালনায় অভিজ্ঞতার ‘অভাব’ দেখার কথা বলেন এ বিশ্লেষক।
তিনি বলেন, “পূর্বের স্পিকারদের সাথে তুলনা করলে এখনকার স্পিকার রাজনীতিতে হয়ত অভিজ্ঞ, কিন্তু সংসদ পরিচালনায় সেই অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে। আমরা বিএনপির সময়ে শেখ রাজ্জাক আলীর মত স্পিকার দেখেছি, যিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পার্লামেন্ট পরিচালনা করেছেন।”
যুদ্ধাপরাধের দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের নাম শোকপ্রস্তাবে রাখার ক্ষেত্রে ‘সমঝোতা’ দেখছেন অধ্যাপক সাব্বির।
তিনি বলেন, “দুই পক্ষ সমঝতা করে যে যার মত করে রাজনৈতিকভাবে এগিয়েছে। বিএনপি রাজনৈতিকভাবে প্রথমেই জামায়াতের শোকপ্রস্তাবকে একোমোডেট করতে পারে না। তবে পরে জামায়াতের জোরাজুরিতেই হয়ত তারা সেটা মেনে নিয়েছে।”
রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াতের ওয়াকআউটেও কোনো চমক দেখছেন না তিনি।
অধ্যাপক সাব্বির বলেন, “তারা ভাষণ বর্জন করবে, এটা তো গতকালই সিদ্ধান্ত ছিল। জাতীয় রাজনীতির প্রভাব পার্লামেন্টে পড়েছে। আমার কাছে মনে হয়, এবারের সংসদ খুব চমক দিতে পারেনি। চমক নেই, তবে স্বাভাবিকতা আছে।”
রাজনীতির এ বিশ্লেষকের ভাষ্য, “সংসদকে কার্যকর করার পূর্ব শর্ত হচ্ছে সংসদ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকট মেটানো। আমি মনে করি ক্ষমতাসীন দল জুলাই সনদের ব্যাপারে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোলে ভালো হত জাতীয় রাজনীতির জন্য ।”

