সময়ের জনমাধ্যম

‘ধর্ষণ’ ধামাচাপা দিতে হত্যা: ‘কেউ ছাড় পাবে না’, : নরসিংদীতে ডিআইজি

Last Updated on 28 seconds by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: নরসিংদীতে ‘ধর্ষণের’ ঘটনা ধামাচাপা দিতে বাবার কাছ থেকে ‘ছিনিয়ে নিয়ে’ কিশোরীকে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। এ সময় তিনি বলেন, এ ঘটনায় কেউ ছাড় পাবে না।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে নয়জনকে আসামি করে মামলার পর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল মাধবদী থানা পুলিশ। কিন্তু তখন তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ডিআইজি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, প্রধান আসামি নূরার চাচাত ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, একই এলাকার এবাদুল্লাহ এবং হোসেন বাজার এলাকার গাফফার।

ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, “অপরাধীরা যে-ই হউক আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকি চারজনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে রয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সব আসামি গ্রেপ্তার হবে। কেউ ছাড় পাবে না।”

এদিকে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। এ সময় তিনি বলেন, “অপরাধী যত ক্ষমতাধর হোক কেউ যেন ছাড় না পায়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে বলেছি। প্রধান আসামি নূরাসহ সব আসামিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি।”

শুক্রবার বিকালে মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এদিকে এ হত্যার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মাধবদী ও নরসিংদী শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

পুলিশ জানায়, ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন কিশোরীকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’ করে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচার করার দায়িত্ব নেন।

তবে অভিযোগ উঠে, তিনি অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করা হয়। মেয়েটির সৎ বাবার ভাষ্য, বুধবার বিকালে মেয়েকে খালার বাড়িতে রাখতে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে বড়ইতলা এলাকায় নূরার নেতৃত্বে পাঁচজন তার কাছ থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে স্বজনরা অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, বৃহস্পতিবার সকালে একটি সরিষা ক্ষেতে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মেয়েটির লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।