সময়ের জনমাধ্যম

নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এনপিএর যাত্রা শুরু, ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল

Last Updated on 3 weeks by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যুক্ত হলো নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)’।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে এই জনগণপন্থি রাজনৈতিক উদ্যোগ।

প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম উদ্যোক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক শিক্ষার্থী মীর হুযাইফা আল মামদূহ জানান, এনপিএর ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হবে। এ সময় ৯৯ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন মামদূহ। বাকি নামগুলো পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

১০১ জন সদস্যের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা অনিক রায়, অলীক মৃ, তুহিন খান, ঢাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি মেঘমল্লার বসু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত, অধিকার কর্মী ফেরদৌস আরা রুমি, তাসলিমা মিজি প্রমুখ।

ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ফেরদৌস আরা রুমি, তুহিন খান এবং নাজিফা জান্নাত। ‘জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি’—এই স্লোগান সামনে রেখে যাত্রা শুরু করা এনপিএ পাঁচটি মূলনীতি ঘোষণা করেছে। মূলনীতিগুলো হলো— গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষা। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা জনগণের অধিকারভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় সব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে দুপুর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এনপিএর নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ ও প্যান্ডেল প্রস্তুত করা হয়। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উল্লেখযোগ্য জনসমাগম তৈরি হয়।

এনপিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিদ্যমান শাসনকেন্দ্রিক ক্ষমতা-কাঠামো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের পরিবর্তে শাসকগোষ্ঠীর অনুগত করে তুলেছে। এর ফলে জনগণের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই ক্ষমতা চর্চা ও সম্পদ আহরণের অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা ও সেবাভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে প্ল্যাটফর্মটি। এনপিএ তাদের ঘোষণায়— আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের পূর্ণ ও কার্যকর পৃথকীকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও কেন্দ্রীয় প্রভাবমুক্ত শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠনের দাবি জানায়।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এনপিএ লুটপাট, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চায়। তাদের লক্ষ্য একটি স্বনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। এ জন্য কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ কৃষিঋণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ভর্তুকি এবং শিল্পশ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক মজুরি কাঠামো প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রগতিশীল করব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বৈষম্য হ্রাস ও রাষ্ট্রীয় আয় বৃদ্ধির কথা জানানো হয়।

পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে এনপিএ। প্ল্যাটফর্মটি জানায়, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্প প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নদী দখল, বন উজাড়, দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে এনপিএ জানায়, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা, জানমালের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয় নতুন এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে মেঘমল্লার বসু এই প্ল্যাটফর্মের কথা জানান।

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আত্মপ্রকাশ করেছে অন্তত ২৮টির বেশি রাজনৈতিক দল।

Reendex

Must see news