Last Updated on 16 hours by zajira news
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি, জাজিরা নিউজ : পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে অন্যান্য দেশের মত মালয়েশিয়াতেও মাস জুড়ে প্রবাসিরা ব্যক্তিগতভাবে এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে আয়োজন করে ইফতার ও দোয়া মাহফিল। প্রবাসেও দেশিয় আমেজে রকমারী ইফতারের আয়োজন করে থাকে প্রবাসি বাংলাদেশিরা।
খাবারের মেনুতে থাকে, বেগুনি, পিয়াজি, আলুর চপ, ছোলা, মুড়ি, খেজুর সহ নানা রকম ফলের সাথে সরবত থাকে নিয়মিত। কর্মব্যস্ততা শেষে সকলে মিলে ইফতারের আয়োজন অংশ নেন প্রবাসীরা। শেষে তারাবির নামাজ আদায় করে তারা।
জাজিরা নিউজ এর মালয়েশিয়া প্রতিনিধি শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে মালয়েশিয়ার শাহালমের পাংসাপুরিতে প্রবাসি বাংলাদেশিদের ইফতারে আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পাংসাপুরির প্রজেক্টে দায়িত্বে থাকা কর্মীদের লিডার মোহাম্মদ রাকিব জাজিরা নিউজকে জানান, মালয়েশিয়ার শাহালমের পাংসাপুরি এই এলাকায় বাংলাদেশি কর্মী ভাইয়েরা ইফতারের খরচের জন্য প্রতিদিন ২ জন কর্মী দুইশত করে মোট চারশত রিংগিত প্রদান করে যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২,০০০ টাকার উপরে হয়। এরপর ইফতারের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মাধ্যমে ইফতার সামগ্রী ক্রয় করে তা প্রস্তুত করা হয়। এভাবেই প্রতিদিনই দুই জন করে আলাদা আলাদা কর্মীদের রিংগিত প্রদানের মাধ্যমে এই একশ’র মত কর্মীদের প্রতিদিনই ইফতারের আয়োজন করা হয়।

রাকিব বলেন, রমজান মাস জুড়ে প্রতি সপ্তাহে ২/৩ বার ইফতারে মাংসের তেহারির আয়োজনও করা হয়। তেহারির আয়োজনের দিন খরচ একটু বেশি পড়ে। এই দিন আমাদের বাজেটে প্রায় ১০০০ রিংগিত রাখতে হয়। কারন মাংসের তেহারির সাথে রোজাদারদের এদিন সরবত, খেজুর, তরমুজ, আনারস সহ বিভিন্ন ফলও দেয়া হয়। আজ তেহারির আয়োজন করা হয়েছে তাই মুড়ি, ছোলা, বুট, পিয়াজি, বেগুনির আইটেম গুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।
রাকিব আরও বলেন, এখানে শুধু প্রবাসি বাংলাদেশিরাই নয় কিছু মালয়েশিয়ান লোকাল এবং পাকিস্তানি নাগরিকও অংশগ্রহন করে আমাদের ইফতারে। সবাই একসাথে আনন্দের সাথে ইফতার করি এবং তারাবির নামাজ আদায় করি।
এখানের আরেক কর্মী বিল্লার হোসেন জানান, আমরা মনে করি এইভাবে মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত সকল প্রবাসি বাংলাদেশি কর্মী ভাইয়েরা যদি মিলে মিশে ইফতারের আয়োজন করে তাহলে ইফতারের আয়োজন সহজ হয়ে যায়। এবং তারা প্রতিদিনই ভাল ভাবে ইফতার করতে পারবে। কারন অনেক সময় শোনা যায় মালয়েশিয়ার কিছু মসজিদে গিয়ে ইফতারের জন্য বাংলাদেশি কর্মীদের ভীড়ের কারনে অস্বস্তিতে পড়েন স্থানীয়রা। তাই আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের সম্মান রাখতে সচেষ্ট হই। আলহামদুলিল্লাহ আমরা সবাই কমবেশি ইনকাম করি। তাই এই পবিত্র রমজান মাসে এটুকু খরচতো আমরা করতেই পারি। প্রবাসে আমরাও ভাল থাকি আর বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করি।

