Last Updated on 2 years by zajira news
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ছাত্র রাজনীতিতে আলোচিত নাম আবরার ফাহাদ। এ নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনেক শিক্ষার্থীর আবেগ। ২০১৯ সালে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। ওই হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।
ওই ঘটনার ৪ বছর অতিবাহিত না হতেই ফের বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি ফিরতে যাচ্ছে। তবে, সেখানে নতুন করে ছাত্র রাজনীতি চালুর বিপক্ষে মত দিয়েছেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।
সংবাদ মাধ্যমকে আবরারের বাবা বলেন, ছাত্র রাজনীতি শুরু হলে এখন বুয়েটের যে পরিবেশ আছে তা বিঘ্নিত হবে। আমি আমার এক ছেলেকে হারিয়েছি। আরেক ছেলেকে সেখানেই (বুয়েটে) ভর্তি করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না বুয়েটে আবারও ছাত্র রাজনীতি চালু হোক। আমার স্ত্রী ও জীবিত যে ছেলে আছে তাদেরও একই দাবি।
বুয়েটে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের যন্ত্রকৌশল বিভাগের লেভেল-২ (টার্ম-১) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। বুয়েটে আবারও ছাত্র রাজনীতি চালুর তোড়জোড় চলছে, ছাত্র হিসেবে আপনি কি চান? এমন প্রশ্নের জবাবে আবরার ফাইয়াজ বলেন, ‘পঞ্চাশজন ছাত্র রাজনীতি চাই না, আর পাঁচজন চাই। অথচ এ পাঁচ জনের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যারা ক্যাম্পাসে রাজনীতি চাচ্ছেন, তারা কি আর কাউকে মারার আগে দ্বিতীয়বার ভাববে, ভাববে না।

আর এমন সিদ্ধান্তে আবরার ফাহাদের ছোট ভাই বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাইয়াজ নিজের ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, আমি আবরার ফাইয়াজ, বুয়েট লেভেল-২(টার্ম-১) একজন শিক্ষার্থী। আমি বুয়েট ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কোনো প্রকার সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি পুনরায় প্রতিষ্ঠা হোক চাই না।’ মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে নিজের ফেসবুজ পেজে এমন পোস্ট করেছেন তিনি।
সোমবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যার আগে বুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে তাদের এ অবস্থানের কথা জানান শিক্ষার্থীরা। এসময় তিন শিক্ষার্থী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। হাইকোর্টে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের বিজ্ঞপ্তি স্থগিতের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বুয়েট প্রশাসনের কাছে দাবি রাখবো যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত যথাযথভাবে বিচার বিভাগের কাছে তুলে ধরা হোক। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি না থাকার দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং অটল। যে ছাত্ররাজনীতি র্যাগিং কালচারকে প্রশ্রয় দেয়, ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রশ্রয় দেয়, যার বলি হতে হয় নিরীহ ছাত্রদের। তা কখনোই আমাদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনেনি, আর ভালো কিছু বয়ে আনবেও না।
শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশ ও বিদেশ থেকে অ্যালামনাইরাও বুয়েট ক্যাম্পাস ছাত্র রাজনীতিমুক্ত রাখার বিষয়ে আমাদের সঙ্গে দৃঢ়তা পোষণ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজ নিজ জায়গা থেকে তারা তাদের অবস্থান আমাদের পক্ষে ব্যক্ত করছেন। আমরা বর্তমান শিক্ষার্থীরা আমাদের শিক্ষকদের প্রতি পূর্ণ আস্থা এবং ভরসা রাখি। আমরা শিক্ষার্থীরা আমাদের উপাচার্যকে এই আর্জি জানাচ্ছি তিনি যেন আমাদের শিক্ষকদের নিয়ে আপামর বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের যে আকাঙ্ক্ষা তা যেন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণ করেন।

