Last Updated on 9 hours by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ২০২৫ সালের জুনে এক অভাবী মা তার শিশু কন্যাকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের ঘরে কাজে দেন।
তখন বলা হয়েছিল পড়াশোনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে ওই মেয়েকে বিয়ে দেয়ার দায়িত্বও পালন করবেন সাফিকুর। কিন্তু ওই পরিবারের নির্যাতনে এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে নরক যন্ত্রণা ভোগ করছে শিশুটি।
গত ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শিশুটিকে তার মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। তখন মা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। শিশুটির দুই হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগদগে ক্ষত। যন্ত্রণায় কথা বলার শক্তিটুকুও হারিয়েছে সে।পরে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শিশুটি জানায় সেই লোমহর্ষক বর্ণনা। গত বছরের ২ নভেম্বর থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে তাকে অমানবিক মারধর করা হতো। তুচ্ছ অজুহাতে আগুনে খুন্তি গরম করে শিশুটির কোমল শরীরে দেয়া হতো ছ্যাঁকা। বিমানের এমডি ও তার স্ত্রীসহ অজ্ঞাত আসামিরা এমন পৈশাচিক আচরণ করতো শিশুটির সঙ্গে।
শিশুটির মা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, পড়াশোনার সুযোগ, উন্নত জীবনযাপন এবং বিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে শিশুটিকে কাজে বহাল করেছিল বিমানের এমডি। কিন্তু কাজে যোগ দেয়ার কিছুদিন পর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। পরিবারের লোকেরা দেখা করতে চাইলেও নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হতো।
নির্যাতনের ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। সোমবার দিবাগত রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিমানের এমডি ড. মো. সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথী এবং দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে গ্রেফতার করে।
পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। পরে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে চার জনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

