Last Updated on 8 hours by zajira news
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মিত্রদের জোরালো সমর্থন না পাওয়া এবং হরমুজ প্রণালি সচল করতে ব্যর্থ হয়ে এবার দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইরানের প্রভাবশালী নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হত্যা করা হচ্ছে। সর্বশেষ বুধবার দেশটির গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল, যা পরে তেহরানও নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত সোমবার রাতে তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের সেক্রেটারি আলী লারিজানি এবং বাসিজ প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হন। লারিজানিকে দেশটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের অন্যতম ‘বাস্তববাদী’ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মূল যুদ্ধের শুরুতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর লারিজানিই মূলত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
নেতৃত্বের ওপর এই ধারাবাহিক আঘাতের কঠোর জবাব দিতে শুরু করেছে ইরান। বুধবার ইসরায়েলের ৩৪টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান ও তাদের সহযোগী হিজবুল্লাহ। এতে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি দুই নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ও স্থানীয় সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের আকাশপথের হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, নেতাদের হত্যার মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করা যাবে না। তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এটি কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে ভেঙে পড়বে না। তবে সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে তেহরান এখন সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধের এই বিস্তার নিয়ে খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের বিরোধিতায় পদত্যাগ করেছেন মার্কিন জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের পরিচালক জো কেন্ট।
অন্যদিকে ন্যাটোর পক্ষ থেকে এই যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় ট্রাম্প মিত্রদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য এখন হোয়াইট হাউসের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


