Last Updated on 1 year by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর থেকে প্রতিদিনই নতুন নতুন দাবিতে আন্দোলনে নামছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সর্বত্রই দাবির মিছিল। সচিবালয় থেকে গ্রাম পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলেজ, রিকশা থেকে রেল। রাজধানী ঢাকা হয়ে উঠেছে দাবির শহর। যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দাবি নিয়ে রাস্তায় নামলে সেসব আবার পূরণও হয়ে যাচ্ছে।
সাধারণ মানুষ থেকে সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, এসব দাবির কোনো কোনোটির যৌক্তিকতা থাকলেও বেশিরভাগ দাবি অযৌক্তিক ও ভোগান্তিমূলক ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাতেমা রেজিনা ইকবাল এক গনমাধ্যমকে বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনটা সংঘটিত হয়েছিল বৈষম্য নিরসনের জন্য। গত ১৬ বছর যারা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন এখন দাবি আদায়ে তারা রাস্তায় নেমে আসবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে রাস্তা তো আর আন্দোলনের জন্য নয়, গাড়ি চলাচল এবং মানুষের যাতায়াতের জন্য তৈরি করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো হয়, জনদুর্ভোগ এড়িয়ে দাবি জানানোর জন্য রাস্তার বিকল্প হিসেবে কোনো একটা খোলা ময়দান নির্দিষ্ট করে দেওয়া গেলে।
৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, তখনই বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার দাবি নিয়ে রাজপথে নামে রাজধানীর তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে রাজধানীর ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ছাত্রদের এ আন্দোলনের মধ্যেই রাস্তায় নামে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা।
আগস্টের শেষ দিকে এসে চাকরি জাতীয়করণ, স্থায়ীকরণ, পুনর্বহাল, পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারসহ নানা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করতে দেখা যায় বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিদের। অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ আনসার, বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কমিউনিটি ক্লিনিকের মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার, শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরীরা।
২৫ আগস্ট চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর দ্বারা দিনভর অবরুদ্ধ ছিল সচিবালয়। রাতে প্রায় ১০ হাজার আনসার সদস্য একত্রিত হয়ে সচিবালয় ঘেরাও করে অন্তর্বর্তী সরকারের সাতজন উপদেষ্টাসহ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিম্মি করে রাখে। সব দাবি মেনে নেওয়ার পরও উত্তেজিত আনসাররা জোরপূর্বক সচিবালয়ে ঢুকে পড়ে। অবশেষে সেনাবাহিনীকে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।
সেপ্টেম্বরে সাভার-আশুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নামে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে অনেক দিন ধরেই। সরকার পতনের কিছু দিন পরই রাজধানীর নিউমার্কেট ও সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিক্ষোভ করেন তারা।
২৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় কোটা পদ্ধতি বাতিল করাসহ পাঁচ দফা দাবির প্রেক্ষিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১৬টি বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে রয়েছেন বেক্সিমকোর কর্মচারীরা। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া, ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা, এলসি খোলা এবং বকেয়া পরিশোধ করা।
রেলওয়ের রানিং স্টাফদের দুই দফা দাবিতে কর্মবিরতির কারণে অচলাবস্থা বিরাজ করছে রেলপথে। গত সোমবার রাত ১২টা থেকে সারা দেশে বন্ধ রয়েছে রেল চলাচল। গন্তব্যে যেতে পারছিল না যাত্রীরা। পড়েছিলেন সিমাহীন দুর্ভোগে।
অবশেষে, ৩০ ঘণ্টা পর দাবি পূরণের আশ্বাসে রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহারের মাধ্যমে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।


