সময়ের জনমাধ্যম

কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামালেন দিনমজুর এনামুল, বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

দিনমজুর এনামুল হক কলার মোচা থেকে লাল রঙের বড় খোসা খুলে লাঠির মাথায় দড়ি দিয়ে বাঁধেন। এটা দিয়েই তিনি ট্রেন থামান I ছবি : সংগৃহীত

Last Updated on 2 months by zajira news

দিনাজপুর প্রতিনিধি, জাজিরা নিউজ: সকালে বাড়ির সামনে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন দিনমজুর এনামুল হক (৬২)। সামনে এগোতেই চোখে পড়ে, রেললাইনের প্রায় এক হাত অংশ ভাঙা। বিষয়টি নিকটবর্তী রেলস্টেশনে জানাতে গ্রামের এক যুবককে মুঠোফোনে কল দেন তিনি। দেড় কিলোমিটার দূরে ট্রেনের হুইসেল বাজছিল, ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তিনি আশপাশে খুঁজতে থাকেন লাল রঙের কাপড়।

লাল কাপড় না পেয়ে দৌড়ে রেললাইনের পাশের কলাখেতে যান এনামুল হক। তড়িঘড়ি করে কলাগাছ থেকে কলার মোচা ছেঁড়েন। এরপর মোচা থেকে লাল রঙের বড় খোসা খুলে লাঠির মাথায় দড়ি দিয়ে বাঁধেন। এটি লাল নিশানের মতো উঁচিতে রেললাইনের পাশে দাঁড়ান। পাঁচ মিনিট পর সামনে দক্ষিণ দিক থেকে আসা দ্রুতগামী ট্রেন লাল নিশান দেখে থেমে যায়। দিনমজুর এনামুল হকের এমন বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় ট্রেনটি। এনামুল হককে সাধুবাদ জানাতে হাততালি দেন ট্রেনের যাত্রী ও রেললাইনের পাশে জড়ো হওয়া আশপাশের উৎসুক জনতা।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামে রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে। দিনমজুর এনামুল হক উপজেলার পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হক সোনারের ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর। ট্রেনটি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ায় এলাকায় প্রশংসায় ভাসছেন এনামুল হক।

এনামুল হক বলেন, ‘সকালে রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় রেললাইনের ভাঙা অংশ দেখে চমকে উঠেছি। দূরোত থাকি ট্রেনের হুইসেল শুনে ঠিক থাকপার পারি নাই। কীভাবে ট্রেনটি দুর্ঘটনা থেকে বাঁচামো এই চিন্তায় রেললাইনের পাশে দৌড়াদৌড়ি করছিলাম। রেললাইনের পাশের কলাবাগান থাকি কলার মগজ (মোচা) ছিঁড়ে লাল বাকল (খোসা) দিয়ে লাঠিতে বান্ধি (বেঁধে) নিশানা করে সিগনাল দিছি। আমার সামনে ট্রেনটি থামার পর আমার খুব ভালো লাগিছে। ম্যালাগুলা মানষের জীবন বাঁচল।’

পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ রানা বলেন, এনামুল চাচা খুব অত্যন্ত সহজ–সরল মানুষ। তাঁর মানবিক চিন্তা ও বুদ্ধিমত্তায় ট্রেনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল। শত শত যাত্রী মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেল। এনামুল চাচার এমন মহৎ কাজে পুরো গ্রামবাসীর এখন গর্ব হচ্ছে। সবাই তাঁর প্রশংসা করছেন।

ফুলবাড়ি রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার শওকত আলী জানান, সকালে বিরামপুরের পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকায় রেললাইনের একটি অংশ ভাঙা দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁকে (শওকত আলী) খবর দেন। পরে বিষয়টি তিনি রেলওয়ের পার্বতীপুর প্রকৌশলী দপ্তরকে জানান। সেখানকার লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ নম্বর মাইলপোস্টের মাঝামাঝি অংশে রেললাইনের ওই ভাঙা অংশটি মেরামত করেন। পরে আধা ঘণ্টা দেরিতে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এনামুল হকের এই মানবিক কাজের কারণে ট্রেনটি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময় অতিরিক্ত চাপে হয়তো রেললাইনের ওই অংশ ভেঙে গেছে। রেললাইন মেরামতের পর থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: সকালে বাড়ির সামনে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন দিনমজুর এনামুল হক (৬২)। সামনে এগোতেই চোখে পড়ে, রেললাইনের প্রায় এক হাত অংশ ভাঙা। বিষয়টি নিকটবর্তী রেলস্টেশনে জানাতে গ্রামের এক যুবককে মুঠোফোনে কল দেন তিনি। দেড় কিলোমিটার দূরে ট্রেনের হুইসেল বাজছিল, ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তিনি আশপাশে খুঁজতে থাকেন লাল রঙের কাপড়।

লাল কাপড় না পেয়ে দৌড়ে রেললাইনের পাশের কলাখেতে যান এনামুল হক। তড়িঘড়ি করে কলাগাছ থেকে কলার মোচা ছেঁড়েন। এরপর মোচা থেকে লাল রঙের বড় খোসা খুলে লাঠির মাথায় দড়ি দিয়ে বাঁধেন। এটি লাল নিশানের মতো উঁচিতে রেললাইনের পাশে দাঁড়ান। পাঁচ মিনিট পর সামনে দক্ষিণ দিক থেকে আসা দ্রুতগামী ট্রেন লাল নিশান দেখে থেমে যায়। দিনমজুর এনামুল হকের এমন বুদ্ধিমত্তায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় ট্রেনটি। এনামুল হককে সাধুবাদ জানাতে হাততালি দেন ট্রেনের যাত্রী ও রেললাইনের পাশে জড়ো হওয়া আশপাশের উৎসুক জনতা।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামে রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে। দিনমজুর এনামুল হক উপজেলার পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হক সোনারের ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর। ট্রেনটি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ায় এলাকায় প্রশংসায় ভাসছেন এনামুল হক।

এনামুল হক বলেন, ‘সকালে রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় রেললাইনের ভাঙা অংশ দেখে চমকে উঠেছি। দূরোত থাকি ট্রেনের হুইসেল শুনে ঠিক থাকপার পারি নাই। কীভাবে ট্রেনটি দুর্ঘটনা থেকে বাঁচামো এই চিন্তায় রেললাইনের পাশে দৌড়াদৌড়ি করছিলাম। রেললাইনের পাশের কলাবাগান থাকি কলার মগজ (মোচা) ছিঁড়ে লাল বাকল (খোসা) দিয়ে লাঠিতে বান্ধি (বেঁধে) নিশানা করে সিগনাল দিছি। আমার সামনে ট্রেনটি থামার পর আমার খুব ভালো লাগিছে। ম্যালাগুলা মানষের জীবন বাঁচল।’

পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ রানা বলেন, এনামুল চাচা খুব অত্যন্ত সহজ–সরল মানুষ। তাঁর মানবিক চিন্তা ও বুদ্ধিমত্তায় ট্রেনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল। শত শত যাত্রী মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেল। এনামুল চাচার এমন মহৎ কাজে পুরো গ্রামবাসীর এখন গর্ব হচ্ছে। সবাই তাঁর প্রশংসা করছেন।

ফুলবাড়ি রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার শওকত আলী জানান, সকালে বিরামপুরের পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকায় রেললাইনের একটি অংশ ভাঙা দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁকে (শওকত আলী) খবর দেন। পরে বিষয়টি তিনি রেলওয়ের পার্বতীপুর প্রকৌশলী দপ্তরকে জানান। সেখানকার লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ নম্বর মাইলপোস্টের মাঝামাঝি অংশে রেললাইনের ওই ভাঙা অংশটি মেরামত করেন। পরে আধা ঘণ্টা দেরিতে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এনামুল হকের এই মানবিক কাজের কারণে ট্রেনটি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময় অতিরিক্ত চাপে হয়তো রেললাইনের ওই অংশ ভেঙে গেছে। রেললাইন মেরামতের পর থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

Reendex

Must see news