Last Updated on 10 mins by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ঢাকা মহানগরীর নির্ধারিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীর ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আজ বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় ঢাকার বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া পরীক্ষামূলকভাবে এই শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় শনি, সোম ও বুধবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস হবে। আর রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস হবে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি।
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট, তীব্র যানজট ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার কথা বিবেচনায় পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও সশরীর—এই মিশ্র (ব্লেন্ডেড) পদ্ধতির শিক্ষা কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তবে পরীক্ষামূলকভাবে কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও সশরীর ক্লাস—এই মিশ্র পদ্ধতি চালু হচ্ছে, তা সুনির্দিষ্ট করেননি শিক্ষামন্ত্রী। পরে তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, এটা সারা বাংলাদেশ নয়, সব মহানগরেও নয়। যাদের সক্ষমতা আছে, তাদের জন্য।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটা করোনা নয় যে জোর করে করা হবে। এটা ‘ব্লেন্ডিং এডুকেশন’। অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সক্ষমতা যাদের আছে, বিশেষ করে যাদের সুনাম আছে এবং বেশি মানুষের সমাগম হয় যেখানে; যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গাড়িতে স্কুলে আসে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো কোনো হার্ড অ্যান্ড ফাস্ট রুলে যাচ্ছি না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে বাধ্য করছি না। বৃহৎ স্কুলগুলো, ভালো স্কুলগুলো, তাদের ব্লেন্ডেড এডুকেশনে যাওয়ার জন্য আমরা এই কাজগুলো নিয়েছি।’
পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন উপলক্ষে প্রায় ৪০ দিনের ছুটির পর গত ২৯ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানিসংকটে পড়েছে অনেক দেশ, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন পাঠদান চালুর বিষয়টি সামনে আসে।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়া। এর মধ্যে জোড়-বিজোড় ভিত্তিতে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীর পাঠদানের কথা বিবেচনায় ছিল। অর্থাৎ এক দিন অনলাইন হলে পরদিন সশরীর ক্লাস—এভাবে পর্যায়ক্রমে পাঠদান চালানোর ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এ পরিকল্পনা ছিল কেবল মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য। এ নিয়ে গতকাল বুধবার এক সেমিনারের মাধ্যমে অংশীজনদের মতামত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ওই অনুষ্ঠানে নির্ধারিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে সশরীর ও অনলাইনে ক্লাসের সমন্বিত (ব্লেন্ডেড) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর উপস্থিত হয়ে অনলাইনে ক্লাস নেবেন। শিক্ষার্থীদের তিন দিন স্কুলে আনা হবে, আর তিন দিন বাসায় থেকে ক্লাস করবে। ফ্রি ওয়াই–ফাইয়ের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোয় বিনা শুল্কে ইলেকট্রনিক স্কুল বাস কেনার সুযোগ দেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ধীরে ধীরে সবাইকে ডিজিটাল এডুকেশনে নিয়ে যাওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। যদি প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তাহলে সারা দেশেই এ ব্যবস্থায় যাবেন। হঠাৎ এমন কিছু করা হবে না, যাতে লেখাপড়ায় ধস নামবে। এটা ভেবেচিন্তা আস্তেধীরে সবার সহযোগিতা নিয়ে এগোবেন।

