Last Updated on 2 hours by zajira news
লাইফস্টাইল ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: আমরা প্রায়ই শুনি, ধনী পরিবারে জন্ম হওয়া মানে জীবনের সবচেয়ে বড় লটারিতে জিতে যাওয়া। অনেকে মনে করেন, উচ্চবিত্ত পরিবারে জন্মালে জীবনে এগিয়ে থাকা সহজ।
কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। মনোবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, নিম্নমধ্যবিত্ত (লোয়ার মিডল ক্লাস) পরিবারে বড় হওয়া মানুষদের মধ্যে এমন কিছু গুণ তৈরি হয়, যা অনেক সময় ধনীদের মধ্যে থাকে না। এসব গুণ তৈরি হয় জীবনের বাস্তব সংগ্রাম, সীমাবদ্ধতা আর অভিজ্ঞতা থেকে।
– সমস্যা সমাধানে অসাধারণ দক্ষতা
যখন সবকিছু সহজে পাওয়া যায় না, তখন মানুষ শিখে যায়, যা আছে, তা দিয়েই কীভাবে কাজ চালাতে হয়। আর ঠিক এ কারণেই নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া মানুষেরা বেশি সৃজনশীল হয়ে ওঠার সুযোগ পান। সহজেই নতুন বিকল্প বা উপায় খুঁজে পান তাঁরা। ছোটবেলার সীমাবদ্ধতাই পরবর্তী সময়ে তাঁদের শক্তিতে পরিণত হয়।
– মানসিক শক্তি ও সহনশীলতা
ছোটবেলা থেকেই তাঁরা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তাঁদের ছোটবেলা, বেড়ে ওঠা নানা রঙের অভিজ্ঞতায় বর্ণময়। ফলে তাঁরা সহজে ভেঙে পড়েন না। ব্যর্থতা, কষ্ট, সংগ্রাম—এসব তাঁদের কাছে নতুন কিছু নয়। তাই তাঁরা পড়ে গিয়ে দ্রুত উঠে দাঁড়াতে পারেন। হতাশ হন কম।

– সম্পর্কের প্রতি অধিক আন্তরিক
যাঁরা নিজেরা বিভিন্ন ধরনের কষ্ট ও সংগ্রামের অনুভূতির ভেতর দিয়ে গেছেন এবং সে সময়ে পরিবার বা বন্ধুদের সাহায্যও মিলেছে, তাঁরা সম্পর্ককে খুব কমই ‘ফর গ্রান্টেড’ হিসেবে নেন। সম্পর্ক তাঁদের কাছে পারস্পরিক নির্ভরশীলতায় গভীর আর আন্তরিক।
আর তাঁরা যেহেতু বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছেন, তাই অন্যের একই ধরনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সহজে নিজেকে মেলাতে পারেন। অন্যের জুতা নিজের পায়ে গলিয়ে পরখ করা তাঁদের জন্য সহজ।
তাঁরা অন্যের কষ্ট সহজে বুঝতে পারেন। এ কারণেই তাঁরা আরও মানবিক, সম্পর্কের প্রতি আন্তরিক ও অন্যের অনুভূতির প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ও সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠার সুযোগ পান।
– উচ্চ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স
কম সুযোগ-সুবিধার পরিবেশে বড় হওয়া মানুষদের অন্যের আচরণ, অনুভূতি বুঝে চলতে হয়। ফলে তাঁদের পক্ষে সামনের মানুষের মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা সহজ। তাঁরা পরিস্থিতি বুঝে কাজ করেন। এ জন্য তাঁরা সামাজিক পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলাতে পারেন।
– কঠোর পরিশ্রমের অভ্যাস
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া মানুষদের সাধারণত পারিবারিক অর্থনৈতিক ব্যাকআপ থাকে না। ফলে তাঁরা লক্ষ্যপূরণে মরিয়া হন। তাঁদের ভেতরে একধরনের স্থায়ী চেষ্টা ও ধৈর্য তৈরি হয়। আর এসব কারণে তাঁরা সাধারণত অধিক পরিশ্রমী হন। সূত্র: ভেরি ওয়েলমাইন্ড

