সময়ের জনমাধ্যম

আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: ক্ষতিপূরণ ও বিচার চেয়ে উকিল নোটিস

Last Updated on 23 seconds by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে এক রাতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে উকিল নোটিস দিয়েছেন এক আইনজীবী।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান শুক্রবার ই-মেইলের মাধ্যমে ওই নোটিস পাঠান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) এবং আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালককে সেখানে বিবাদী করা হয়।

কোরবানির ঈদের আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে থাকা ছয় শিশুর সবাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে তাদের মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় দেশব্যাপী ‘গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের’ সৃষ্টি হওয়ার কথা তুলে ধরে নোটিসে বলা হয়, “একাধিক নবজাতক হঠাৎ একসঙ্গে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অবিরাম কান্না, বমি, শ্বাসকষ্ট এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখা দেয়।

“এমন সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত জরুরি চিকিৎসা, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।”

সংকটাপন্ন নবজাতকদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা দেওয়া বা উপযুক্ত চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ‘গুরুতর বিলম্ব’ ঘটেছে বলে নোটিসে অভিযোগ করা হয়।

সেখানে বলা হয়, এই ঘটনা দেশের হাসপাতালগুলোতে মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডের নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা, রোগী পর্যবেক্ষণ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার ‘গুরুতর দুর্বলতা’ সামনে নিয়ে এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে উকিল নোটিসে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে সেখানে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত নবজাতকদের পরিবারকে ‘পর্যাপ্ত ও কার্যকর’ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি চিকিৎসাসাড়া, রোগী নিরাপত্তা এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা, প্রটোকল ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে নোটিসে।

প্রতিটি হাসপাতালের নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা, সেবার মান এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি ও মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি তদারকি বা সুপারভাইজরি কমিটি গঠনের কথাও নোটিসে বলা হয়েছে।

নোটিস পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রকাশ্যে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন নোটিসদাতা আইনজীবী। তা না হলে ‘জনস্বার্থে’ উপযুক্ত আদালতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিসে সতর্ক করা হয়েছে।

শিশু মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে, তদন্ত করছে পুলিশও। এক শিশুর বাবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘অবহেলার’ অভিযোগে এনে রমনা থানায় মামলাও করেছেন।