Last Updated on 16 hours by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত পূজামণ্ডপ। দেবী দুর্গার আরাধনায় সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাঅষ্টমীতে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে কুমারী পূজা। দেবীর মাতৃরূপের আরাধনা, পুষ্পাঞ্জলি ও সন্ধিপূজার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে দিনটি উদযাপন করছেন ভক্তরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহাষ্টমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে মন্দিরে ভক্তদের সমাগম ঘটে। পূজা শেষে দুপুরে মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন রয়েছে। মহাঅষ্টমীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কুমারী পূজা।
রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল সাড়ে ৯টায় এ পূজার আয়োজন করা হয়। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী বালিকার মধ্যে দেবী দুর্গার পবিত্র মাতৃরূপ কল্পনা করে তাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা।
হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত এক থেকে ১৬ বছর বয়সী অবিবাহিত কন্যাকে কুমারী হিসেবে পূজা করা হয়। বয়সভেদে তাঁদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করার রীতি রয়েছে। এ পূজার মধ্য দিয়ে দেবীর মাতৃরূপ উপলব্ধি এবং নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতায় নির্বাচিত বালিকাকে গোসল করিয়ে নতুন পোশাকে সাজানো হয়। কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত আসনে বসানো হয় তাকে। এরপর ষোড়শোপচারে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এ সময় শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্য ও দেবীস্তবের মধ্য দিয়ে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ।
শ্রী রামকৃষ্ণের ভাবধারায় কুমারীর মধ্যে ভগবতীর রূপ উপলব্ধি এবং মাতৃভাবের আরাধনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পূজার ধর্মীয় তাৎপর্যের সঙ্গে নারীর মর্যাদা ও মাতৃরূপের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টিও জড়িত।
এদিকে মহাঅষ্টমীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সন্ধিপূজা। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, চণ্ড ও মুণ্ড নামের দুই অসুরকে বধ করতে দেবী দুর্গার চামুণ্ডা রূপ ধারণের ঘটনাকে স্মরণ করে এ পূজা করা হয়।
দুর্গোৎসবের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। দশমীর দিন বিকেল ৩টার পর প্রতিমা বিসর্জনের কর্মসূচি রয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়ে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
মহাঅষ্টমীর পূজা, সন্ধিপূজা ও কুমারী পূজাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতিতে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।


