সময়ের জনমাধ্যম

মেসির যেন বয়স বাড়ে না, মেসির ফুটবল শেষ হয় না

Last Updated on 14 hours by zajira news

স্পোর্টস ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: মেসি তো মেসিই। খেলার ৩৮ মিনিটে বাঁ দিক থেকে একটা ক্রস এল। থিয়াগো আলমাদা বলটা ছেড়ে দিলেন, ডামি মুভ। বল এগিয়ে গেল মেসির পায়ের কাছে। কোনো থামা নেই, কোনো ভাবনা নেই। প্রথম স্পর্শেই পাঠিয়ে দিলেন নিচু কোণে, বাঁ দিকে। অস্ট্রিয়ার গোলকিপার নড়ার আগেই বল জালে।

বিশ্বকাপে ১৭তম গোল, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। মিরোস্লাভ ক্লোসা পেছনে পড়ে গেলেন। যে ইতিহাস তাঁরই হওয়ার কথা ছিল, সেটা হলো। ডালাস ফুটে উঠল। স্টেডিয়ামের আলো যেন আরও উজ্জ্বল হলো। মেসি দৌড়ে গেলেন, সতীর্থরা ছুটে এলেন। মাঠের কোণে জড়ো হওয়া সেই মানুষগুলো এবং স্টেডিয়ামে আরও যাঁরা কাঁদলেন, তাঁরা সবাই কিন্তু আর্জেন্টাইন ছিলেন না। এই ছবি ফুটবলের আর্কাইভে অনন্তকাল থাকবে। ৩৯ বছর বয়সের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে লোকটা, মাত্র দুদিন পর জন্মদিন, এই মানুষটা ইতিহাসের পাথরে নাম খোদাই করলেন।

অস্ট্রিয়া লড়ে যাচ্ছিল। মার্কো আরনাউতোভিচ, মার্সেল সাবিটসার—এঁদের নিয়ে একটা প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরি হয়েছিল। তীব্রতা ছিল তাঁদের খেলায়। কিন্তু দিক ছিল না, ছিল না কাজটা শেষ করার কেউ। এরপর এল ম্যাচের শেষ দৃশ্য।

৯০+৫ মিনিট। যোগ হওয়া সময়ের শেষ পর্যায়ে হুলিয়ান আলভারেজের একটা শট ঠেকে গেল। সেই রিবাউন্ড থেকে মেসি শট নিলেন, সেটাও ব্লক। তারপর বল ফিরে এল, আবার মেসি—এবার আর ভুল নেই। বল জালে, আর্জেন্টিনা ২-০। বিশ্বকাপে মেসির ১৮তম গোল, আরও পেছনে পড়ে গেলেন ক্লোসা।

এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার পাঁচটা গোল, পাঁচটিই মেসির। শেষ মুহূর্তে একটা ফ্রি-কিক থেকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এসেছিল, বল পোস্টের পাশ দিয়ে চলে গেল। কিন্তু তাতে কী!

পেনাল্টি মিসের লজ্জা, আর সেই লজ্জাকে গৌরবে বদলে দেওয়া, এই দুটো মিলিয়েই একটা গল্প তৈরি হয়েছে, যা ভুলবে না ডালাস।

অস্ট্রিয়া লড়াই করেছে। ডেভিড আলাবা, আলেকজান্ডার প্রাস, কেভিন ডানস—এঁরা পুরো ম্যাচ চেষ্টা করেছেন; কিন্তু সামনে মেসি থাকলে সব হিসাব ওলটপালট হয়ে যায়।

আর্জেন্টিনা ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে। অস্ট্রিয়ার শেষ গ্রুপ ম্যাচটা আলজেরিয়ার বিপক্ষে—বাঁচার লড়াই। কিন্তু ডালাসের এই রাত অস্ট্রিয়ার নয়, এমনকি আর্জেন্টিনারও নয়। এই রাত মেসির।

পেনাল্টি মিস দিয়ে শুরু, আর ইতিহাসভাঙা গোল দিয়ে শেষ—এইটুকু সময়ের ভেতরে মেসি এমন একটা চাপ নিলেন, এমন একটা গল্প বললেন, যা কোনো চিত্রনাট্যকার লিখতে পারতেন না। ৩৯ বছর বয়সে, বিশ্বকাপের মাঠে পাঁচটা গোল, দুটো ম্যাচে। এই মানুষটার বয়স বাড়ে না। এই মানুষটার ফুটবল শেষ হয় না।