সময়ের জনমাধ্যম

ইতালির আবারও স্বপ্ন ভঙ্গ , বিশ্বকাপে বসনিয়া

চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকতে হবে । ২০১৮ থেকে দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে ইতালিকে

Last Updated on 3 hours by zajira news

স্পোর্টস ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: শুরুতে পাওয়া লিড ধরে রাখতে না পারলেও, অনেকটা সময় একজন কম নিয়ে খেলে ম্যাচ টাইব্রেকারে টেনে নিল ইতালি। সেখানে পেরে উঠল না তারা। বিশ্বকাপে ফেরার অপেক্ষা এবারও ঘুচল না চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।

ইউরোপ অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে অফ ফাইনালে টাইব্রেকারে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিল বসনিয়া। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতা ছিল।

বসনিয়ার মাঠে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে মোইজে কিনের গোলে এগিয়ে যাওয়া ইতালি প্রথমার্ধের শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হয়। দ্বিতীয়ার্ধে হারিস তাবাকোভিচের গোলে সমতা টানে স্বাগতিকরা। টাইব্রেকারে ইতালির প্রথম শট উড়িয়ে মারেন এসপোসিতো, ব্রায়ান ক্রিস্তান্তের শট লাগে ক্রসবারে। বসনিয়ার প্রথম চার শটে সবাই পান জালের দেখা।

ইতালি সবশেষ বিশ্বকাপ জেতে ২০০৬ সালে। পরের দুই আসরে তারা বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে। ২০১৮ থেকে টানা তিন আসরে দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। এই তিনবারই প্লে অফে হেরেছে তারা। বসনিয়া বিশ্বকাপে খেলবে ১২ বছর পর। এর আগে একবারই বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা, ২০১৪ সালে।

ইউরোপের আরেক প্লে অফ ফাইনালে ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকেট পেয়েছে চেক রিপাবলিক। নির্ধারিত সময়ে ১-১ ও অতিরিক্ত সময়ে ২-২ ছিল স্কোরলাইন। ম্যাচে প্রায় ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ৩০টি শট নিয়ে ১১টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বসনিয়া। ১০টি সেভ করেন দোন্নারুম্মা। ইতালির ৯ শটের কেবল তিনটি লক্ষ্যে ছিল।

প্রতিপক্ষের ভুলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে পঞ্চদশ মিনিটে এগিয়ে যায় ইতালি। সতীর্থের ব্যাক-পাস পেয়ে বসনিয়ার গোলরক্ষক বল তুলে দেন ইতালির নিকোলো বারেল্লার পায়ে। এই মিডফিল্ডারের পাসে বক্সের বাইরে থেকে শটে বল জালে পাঠান ফরোয়ার্ড কিন। শুরু থেকেই বসনিয়া সুযোগ তৈরি করতে থাকে একের পর এক। কিন্তু ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা আর দোন্নারুম্মার দৃঢ়তায় বারবার হতাশ হয় তাদের।

৪১তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ আসে তাদের সামনে। বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া মেমিককে বক্সের বাইরে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইতালির ডিফেন্ডার আলেস্সান্দ্রো বাস্তোনি। প্রথমার্ধে যেখানে গোলের জন্য ইতালির দুই শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে, সেখানে বসনিয়ার ১৩ শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল।

৬০তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পান কিন। মাঝমাঠ থেকে বল ধরে এগিয়ে যান তিনি। গোলরক্ষকও এগিয়ে আসেন। কিন্তু ওয়ান-অন-ওয়ানে উড়িয়ে মারেন ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।

৭৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে বসনিয়া। ডান দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে দূরের পোস্টে এদিন জেকোর প্রচেষ্টা দোন্নারুম্মা ফিরিয়ে দিলেও, কাছ থেকে জালে পাঠান হারিস তাবাকোভিচ। ৯০ মিনিটের বাকি সময়ে ও অতিরিক্ত সময়ে সুযোগ পায় দুই দলই, কিন্তু স্কোরলাইনে আর পরিবর্তন আসেনি। এরপর পেনাল্টি শুট আউটে বসনিয়ার বাজিমাত আর ইতালির একরাশ হতাশা।

ম্যাচ জুড়ে আক্রমণে আধিপত্য করে অসংখ্য সুযোগ পেল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। একের পর এক সেভ করে তাদের হতাশ করলেন জানলুইজি দোন্নারুম্মা।