Last Updated on 2 months by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ:বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারের এযাবৎকালের সবচেয়ে নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করেছেন। মহাবিশ্বের এই রহস্যময় ও অধরা অংশ নিয়ে রহস্যের জট খুলতেই তাদের এই প্রচেষ্টা।
গবেষকরা বলছেন, এ মানচিত্রটি থেকে বোঝা যায় কীভাবে ডার্ক ম্যাটার আমাদের আশপাশের তারা, ছায়াপথ ও গ্রহ তৈরিতে পর্দার আড়াল থেকে কারিগর হিসেবে কাজ করেছে।
ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, মহাবিশ্ব টিকে থাকার পেছনে ডার্ক ম্যাটারের ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ ভূমিকা রয়েছে– এ ধারণাকেই আরও জোরালো করল তাদের এই মানচিত্র। একইসঙ্গে আমাদের পরিচিত দৃশ্যমান জগতের সঙ্গে এ রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারের সম্পর্ক ঠিক কেমন সে বিষয়েও নতুন কিছু ইঙ্গিত মিলেছে।
নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এ অনন্য মানচিত্রটি তৈরি করেছেন গবেষকরা।
মহাবিশ্ব তৈরির শুরুতে ডার্ক ম্যাটার ও সাধারণ পদার্থ উভয়ই খুব পাতলা স্তরে চারদিকে ছড়িয়ে ছিল। এরপর ডার্ক ম্যাটার ধীরে ধীরে জমাট বাঁধতে শুরু করে এবং সাধারণ পদার্থকে নিজের দিকে টেনে আনে। এভাবেই তারা ও ছায়াপথ তৈরি হয়েছে, যার পরিণতি আজকের এই মহাবিশ্ব।ফলে আমাদের আশপাশে আমরা যা কিছু দেখি, এমনকি আমাদের অস্তিত্বের পেছনেও ডার্ক ম্যাটারের বিন্যাস ও গঠন জড়িয়ে আছে।
‘ডারহাম ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাপক ও এ গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক গ্যাভিন লেরয় বলেছেন, “অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি আমাদের এ মানচিত্রটি থেকে ইঙ্গিত মেলে, কীভাবে মহাবিশ্বের অদৃশ্য উপাদান দৃশ্যমান জগতকে কাঠামো দিয়েছে। এর মাধ্যমেই ছায়াপথ, তারা ও প্রাণের বিকাশ সম্ভব হয়েছে।
“মানচিত্রটি ডার্ক ম্যাটারের সেই অদৃশ্য তবে অপরিহার্য ভূমিকা সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে ডার্ক ম্যাটারই মহাবিশ্বের আসল স্থপতি, যা ধীরে ধীরে সেসব কাঠামো তৈরি করেছে, যে ফলাফল আমরা টেলিস্কোপের সাহায্যে দেখতে পাই।”
ডার্ক ম্যাটার আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অদৃশ্য। এর থেকে কোনো আলো শোষণ বা নিঃসরণ হয় না, এবং খুব সহজেই সাধারণ পদার্থের ভেতর দিয়ে চলাচল করতে পারে ডার্ক ম্যাটার। তবে মহাবিশ্বের দৃশ্যমান অংশগুলোর ওপর এর মহাকর্ষ বল কীভাবে প্রভাব ফেলছে তা পর্যবেক্ষণ করে এ রহস্যময় বস্তুটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
‘ডারহাম ইউনিভার্সিটি’র রিচার্ড ম্যাসি বলেছেন, “বর্তমানে মহাবিশ্বের যেখানেই আপনি সাধারণ পদার্থের দেখা পাবেন, সেখানেই ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব রয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি ডার্ক ম্যাটার কণা আপনার শরীরের ভেতর দিয়ে চলে যাচ্ছে। এতে কোনো ক্ষতি নেই; আমাদের অস্তিত্ব টেরও পায় না এরা, কেবল নিজেদের মতো বয়ে চলে।
“তবে মিল্কিওয়ে ছায়াপথের চারদিকে ঘিরে থাকা ডার্ক ম্যাটারের সুবিশাল মেঘের এতটাই মহাকর্ষ শক্তি রয়েছে যে তা পুরো ছায়াপথটিকে একত্রে ধরে রেখেছে। এ ডার্ক ম্যাটার না থাকলে মিল্কিওয়ে ঘূর্ণনের চোটে ছিঁড়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ত।”
নতুন মানচিত্রটি তৈরি করতে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ মহাকাশের এক নির্দিষ্ট অংশের দিকে প্রায় ২৫৫ ঘণ্টা তাকিয়ে ছিল এবং সেখান থেকে ৮ লাখ ছায়াপথ শনাক্ত করেছে। এর মাধ্যমে গবেষকরা আকাশের এমন এক অংশের মানচিত্র তৈরি করতে পেরেছেন, যা আকাশে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও প্রায় আড়াই গুণ বড় অংশ জুড়ে রয়েছে।
নাসার ডায়ানা স্কোগনামিগলিও বলেছেন, “ওয়েব টেলিস্কোপ দিয়ে তৈরি এটিই এখন পর্যন্ত ডার্ক ম্যাটারের সবচাইতে বড় মানচিত্র, যা অন্য যে কোনো মানমন্দিরের তৈরি মানচিত্রের তুলনায় দ্বিগুণ স্পষ্ট। “আগে আমরা ডার্ক ম্যাটারের ঝাপসা ছবি দেখতাম। তবে এখন জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের বিস্ময়কর রেজুলিউশনের কল্যাণে মহাবিশ্বের সেই ‘অদৃশ্য কাঠামো’ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে দেখতে পাচ্ছি।”
বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’-তে ‘অ্যান আল্ট্রা-হাই-রেজোলিউশন ম্যাপ অফ (ডার্ক) ম্যাটার’ শিরোনামে গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে।

