Last Updated on 1 day by zajira news
স্পোর্টস ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তির ঘোষণায় আবেগাপ্লুত ফুটবল বিশ্ব। বর্তমান ও সাবেক সতীর্থ থেকে শুরু করে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো—মেসির বিদায়ে সবার কণ্ঠেই ঝরেছে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা আর অগণিত স্মৃতির কথা।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। অভিষেকেই লাল কার্ড, টানা পাঁচটি আন্তর্জাতিক ফাইনালে হার—সবকিছুর পরও জাতীয় দলের প্রতি টান কখনো কমেনি তাঁর।
এমনকি ভক্তদের সমালোচনায় দুবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই মেসিই আর্জেন্টিনাকে এনে দেন কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ ও আরও একাধিক শিরোপার স্বাদ।
বিদায়ের দিনে মেসির পাশে থাকার কথা স্মরণ করে স্ত্রী আন্তোনেলা লিখেছেন, তাঁর স্বপ্ন পূরণের এই যাত্রার সঙ্গী হতে পেরে তিনি গর্বিত। মেসির জন্য তাঁর বার্তা ছিল—এই গল্প ও আরও অনেক কিছুই তাঁর প্রাপ্য।
মেসির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সতীর্থদের একজন রদ্রিগো দে পলও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মেসির নেতৃত্ব, সতীর্থদের প্রতি মানবিকতা এবং দেশের জন্য তাঁর লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে দে পল তাঁকে অভিহিত করেছেন ‘অমর’ হিসেবে। তাঁর ভাষায়, মেসি সতীর্থদের অসংখ্য হাসির কারণ হয়েছেন এবং ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়।
সতীর্থদের বার্তাতেও একই সুর। আনহেল দি মারিয়া ও নিকোলাস তালিয়াফিকো লিখেছেন, ‘চিরন্তন কৃতজ্ঞতা।’ লিয়ান্দ্রো পারেদেসের মতে, মেসি সবসময়ই সবার সেরা হয়ে থাকবেন। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোও জানিয়েছেন, দেশের জন্য মেসি যা দিয়েছেন, তার জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বার্তায় ফুটে উঠেছে আরও ব্যক্তিগত আবেগ। মাঠে মেসির অর্জনের চেয়েও মাঠের বাইরে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলোকে বেশি মনে রাখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। লাউতারো মার্তিনেজও মেসির কাছ থেকে শেখা হাল না ছাড়ার মানসিকতা, নীরবে কাজ করে যাওয়ার অভ্যাস এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার কথা স্মরণ করেছেন।
তবে সবচেয়ে আবেগঘন বার্তাগুলোর একটি এসেছে এনজো ফার্নান্দেজের কাছ থেকে। এক দশক আগে মেসি প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দিলে কিশোর এনজো তাঁকে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তখন তাঁর স্বপ্ন ছিল একদিন মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলা।
সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত বাস্তব হয়। শুধু সতীর্থ হিসেবেই নয়, মেসির সঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হয়েছেন এনজো। বিদায়ের দিনে সেই কিশোরের পুরোনো স্বপ্নের কথা মনে করে তিনি লিখেছেন, মেসির সঙ্গে একই মাঠ, একই ড্রেসিংরুম ও বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পারা তাঁর জীবনের অন্যতম সৌভাগ্য।
এনজোর জন্য তাই মেসির বিদায় মানে শুধু একজন সতীর্থকে হারানো নয়। তাঁর ভাষায়, পরের জাতীয় দলের ক্যাম্পে ঢুকে সামনে ১০ নম্বর জার্সি পরা মেসিকে দেখতে না পাওয়ার দৃশ্যটি কল্পনা করাই কঠিন।
মেসিকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার আগের প্রজন্মের খেলোয়াড়রাও। সাবেক তারকা হাভিয়ের জানেত্তি বলেছেন, মেসি শুধু আর্মব্যান্ড পরা অধিনায়ক ছিলেন না; কঠিন সময়েও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গর্বের সঙ্গে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা, সর্বোচ্চ গোল ও সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন। ব্যর্থতা, সমালোচনা ও হতাশা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি হয়ে উঠেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতীকগুলোর একজন।
তাই মেসির বিদায়ে সতীর্থদের বার্তাগুলোতে একটি কথাই বারবার ফিরে এসেছে—মেসি মাঠ ছাড়লেও তাঁর গল্প শেষ হচ্ছে না। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার থেকে যাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।


