Last Updated on 1 week by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে বিবিসি রেডিওতে যার কণ্ঠ শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকত দেশের মানুষ; এই ভূখণ্ডে বাঙালির দুর্দশার প্রকৃত চিত্র যিনি পৌঁছে দিতেন বিশ্বের কাছে, সেই প্রখ্যাত সাংবাদিক, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু স্যার মার্ক টালি মারা গেছেন।
নয়া দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে মারা যান বিবিসির সাবেক এই সাংবাদিক। তার বয়স ছিল প্রায় ৯০ বছর। বিবিসি হিন্দি সার্ভিস জানিয়েছে, মার্ক টালির মৃত্যুর বিষয়টি তাদের নিশ্চিত করেছেন তার সাবেক সহকর্মী সতীশ জ্যাকব।
ব্রিটিশ-ভারতীয় মার্ক টালি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা ছিলেন। বিবিসি রেডিওতে তার পরিবেশিত খবর ছিল দেশের মানুষের মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ জানার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রাখায় মার্ক টালিকে ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দেয় বাংলাদেশ। সেই সম্মাননা নিতে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন।
১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে জন্ম নেওয়া মার্ক টালি পেশাগত জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন ভারতে। টানা ২০ বছর তিনি নয়াদিল্লিতে বিবিসির ব্যুরোপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর জানিয়ে বিবিসি লিখেছে, বহু বছর তিনি পরিচিত ছিলেন বিবিসির ‘ভয়েস অব ইনডিয়া’ হিসেবে।
“দশকের পর দশক ধরে ব্রিটেন ও বিশ্বের নানা প্রান্তে বিবিসির শ্রোতাদের কাছে মার্ক টালির উষ্ণ কণ্ঠ ছিল পরিচিত ও আপন। তিনি ছিলেন বহুল প্রশংসিত বিদেশ সংবাদদাতা এবং ভারতের বিষয়ে একজন প্রতিবেদক ও বিশ্লেষক।”
কাশ্মির মনিটর লিখেছে, দক্ষিণ এশিয়ার সম্প্রচার সাংবাদিকতার দিকপাল মার্ক টালি নিজেই এক প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছিলেন। ভারত, পাকিস্তানসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে একটি প্রজন্মের কাছে মার্ক টালির কণ্ঠস্বর ছিল বিবিসিরই সমার্থক।
“শান্ত, কর্তৃত্বপূর্ণ ও গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন তার প্রতিবেদন ছিল অহংকারহীন দৃঢ়তা, আবেগতাড়িত না হয়েও সহমর্মিতা এবং আপসহীন স্পষ্টতার অনন্য উদাহরণ। কয়েক দশক ধরে উপমহাদেশের রাজনীতি, সমাজ ও মানুষের জীবনের খবর প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি অসাধারণ ভারসাম্য ও সততার পরিচয় দিয়েছেন।” সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি এ অঞ্চলের বহু ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন, সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন সংবাদ আর নিজের লেখায়। তার বইগুলোতে ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর সঙ্গে তার গভীর সম্পৃক্ততার ছাপ স্পষ্ট।
১৯৯২ সালে উত্তর ভারতের অযোধ্যায় তিনি সাংবাদিকতা জীবনের একটি বিপজ্জনক মুহূর্তের মুখোমুখি হন। হিন্দু উগ্রপন্থিরা সেদিন বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়। বিবিসির প্রতি সন্দেহ থেকে জনতার একটি অংশ টালিকে হুমকি দেয়। ‘মার্ক টালির মৃত্যু চাই’—এমন স্লোগানও ওঠে।
টালিকে কয়েক ঘণ্টা একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে স্থানীয় একজন কর্মকর্তা এবং একজন হিন্দু পুরোহিতের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান। বহু বছর পর মার্ক টালি বলেছিলেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ওই ঘটনা ছিল ভারতের স্বাধীনতার পর ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’।
মার্ক টালির বাবা ছিলেন একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তার মা জন্মেছিলেন বাংলাদেশের আখাউড়ায়। পাট আর নীলের ব্যবসা করতেন মার্ক টালির নানা। তাদের পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতে ব্যবসা ও প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
বিবিসি লিখেছে, টালি বড় হয়েছেন একজন ইংরেজ আয়ার তত্ত্বাবধানে। একসময় আয়া তাকে গাড়িচালকের কাছ থেকে সংখ্যা গোনা শিখতে দেখে ধমক দিয়ে বলেছিলেন, “ওটা চাকরদের ভাষা, তোমার নয়।” পরে তিনি হিন্দিতে দক্ষ হয়ে ওঠেন—দিল্লির বিদেশি সংবাদদাতা মহলে যা ছিল বিরল। ওই গুণই তাকে বহু ভারতীয়ের কাছে করে তোলে আপনজন; তারা তাকে ডাকত ‘টালি সাহেব’ বলে।
প্রাণবন্ত স্বভাব ও ভারতের প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে দেশটির শীর্ষ রাজনীতিক, সম্পাদক ও সমাজকর্মীদের অনেকের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিবিসি লিখেছে, সারা জীবন তিনি এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছেন। তিনি নিঃসন্দেহে ইংরেজ, কিন্তু নিজের ভাষায় কখনোই তিনি ‘ভারতে সাময়িকভাবে থাকা বিদেশি’ ছিলেন না। ভারতই ছিল তার বাড়ি; জীবনের চার ভাগের তিন ভাগ সময় তিনি সেখানেই কাটিয়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই, নয় বছর বয়সে পড়াশোনার জন্য ব্রিটেনে যান টালি। কেমব্রিজে ইতিহাস ও ধর্মতত্ত্ব পড়েন। একসময় পাদ্রি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে লিংকন থিওলজিক্যাল কলেজেও ভর্তি হন, তবে পরে তার মত বদলায়। চার বছর একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে ১৯৬৪ সালে বিবিসিতে যোগ দেন মার্ক টালি। তবে সাংবাদিক হিসেবে নয়, প্রশাসন শাখায় পার্সোনেল ম্যানেজার হিসেবে।
পরের বছর ১৯৬৫ সালে তাকে বিবিসির দিল্লি ব্যুরোতে কনিষ্ঠ প্রশাসনিক সহকারীর পদে বদলি করা হয়। তিনি ফিরে আসেন জন্মস্থানে।দিল্লিতে কাজ করার সময় ধীরে ধীরে সাংবাদিকতার কাজে যুক্ত হতে শুরু করেন মার্ক টালি। ১৯৬৬ সালে তাকে পদোন্নতি দিয়ে বিবিসির নিউজ করেসপন্ডেন্ট করা হয়।
রেডিওতে তার সম্প্রচারভঙ্গি ছিল অনেকের চেয়ে আলাদা। তবে ভারতের সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে তার বোঝাপড়া তার কথায় ফুটে উঠত। সেটা ছিল তার বড় শক্তির জায়গা।
বিবিসিতে ৩০ বছরের চাকরি জীবনে তিনি ২০ বছর ছিলেন দিল্লি ব্যুরোর প্রধান। তবে মাঠে না নেমে কাজ করা সাংবাদিক তিনি ছিলেন না। পেশাগত প্রয়োজনে তিনি ট্রেনে করে ভারতের নানা প্রান্তে ঘুরেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ভ্রমণ করেছেন।
বিবিসি লিখেছে, সাধারণ মানুষের আশা-ভয়, সংগ্রাম ও দৈনন্দিন জীবনের কথা যেমন টালি তুলে ধরেছেন, তেমনি দেশের অভিজাত শ্রেণির কথাও বলেছেন। কুর্তা-পায়জামা পরা যেমন তার কাছে স্বাভাবিক ছিল, তেমনি শার্ট-টাইও। ১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করলে ২৪ ঘণ্টার নোটিসে তাকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তবে ১৮ মাস পর তিনি ফিরে আসেন এবং এরপর থেকে দিল্লিকেই নিজের ঘাঁটি বানান।
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা, অপারেশন ব্লু স্টার, ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ড, শিখবিরোধী দাঙ্গা, রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ড, পাকিস্তানের সামরিক শাসন, শ্রীলঙ্কায় তামিল টাইগারদের বিদ্রোহ, আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের মত ঘটনার খবর বিবিসির মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে দিয়েছেন।
বিবিসি লিখেছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিবিসির করপোরেট অগ্রাধিকারের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে। ১৯৯৩ সালে তিনি এক বক্তৃতায় অভিযোগ করেন, তখনকার মহাপরিচালক জন বার্টের অধীনে বিবিসি ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পরের বছর বিবিসির চাকরি ছাড়েন টালি। এরপর দিল্লিতে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং উপস্থাপক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সরাসরি চাকরি না করলেও বিবিসির বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিদেশি হয়েও ভারতে বিরল সম্মান পেয়েছেন মার্ক টালি। তাকে দেওয়া হয়েছে দেশের দুই শীর্ষ বেসামরিক সম্মাননা—পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ।
ব্রিটেনও তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সম্প্রচার ও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ২০০২ সালে তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ওই সম্মানকে তিনি বর্ণনা করেছিলেন ‘ভারতের প্রতি সম্মান’ হিসেবে। তার প্রথম বই ‘অমৃতসর: মিসেস গান্ধী’স লাস্ট ব্যাটেল’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। বিবিসির সাবেক দিল্লি প্রতিনিধি সতীশ জ্যাকব ওই বইয়ের সহলেখক।
অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে সংঘটিত অপারেশন ব্লু স্টার, শিখ বিদ্রোহীদের দমনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানের খুঁটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে এ বইয়ে। ১৯৯১ সালে প্রকাশিত ‘নো ফুল স্টপস ইন ইন্ডিয়া’ বইটিকে টালির অন্যতম সেরা বই হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দক্ষিণ দিল্লিতে খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন মার্ক টালি। তিনি কখনো ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি।
তবে জীবনের শেষদিকে ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন হওয়ার বিষয়েও তিনি গর্ব বোধ করতেন। তখন বলেছিলেন, ওই স্বীকৃতি তাকে দুই দেশের নাগরিক করে তুলেছে। ভারত ও ব্রিটেন-দুটোই ছিল তার দেশ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করার আগে ঢাকায় অবস্থানরত প্রায় অর্ধশত বিদেশি সাংবাদিককে আটকে ফেলে তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। পরদিন তাদের হোটেল থেকে সরাসরি বিমানে তুলে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় যাতে গণহত্যার কোনো খবর বিশ্ব গণমাধ্যম সংগ্রহ করতে না পারে।
পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বিদেশি সাংবাদিকদের পূর্ব পাকিস্তান সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর জুনের তৃতীয় সপ্তাহে বিবিসি মার্ক টালিকে বাংলাদেশে পাঠায়। সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবির ও বিভিন্ন জেলা ঘুরে তিনি বাঙালির দুর্দশার প্রকৃত চিত্র আর যুদ্ধের খবর পাঠাতে থাকেন। রণাঙ্গনের সেসব খবর বিশ্ববাসীর বিশ্বাসযোগ্য সংবাদউৎস হয়ে ওঠে।
মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে মার্ক টালি ছিলেন বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের আশার আলো। রেডিওতে কান পেতে সকাল-সন্ধ্যা বিবিসিতে মার্ক টালির কণ্ঠ শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকত পুরো দেশ। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। মার্ক টালি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ১৯৭১ সালের সেই সফরে তিনি ঢাকা থেকে সড়ক পথে রাজশাহী গিয়েছিলেন।
“পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যখন সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছাল এবং তারা মনে করল যে পরিস্থিতির উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে, তখনই তারা আমাদের আসার অনুমতি দিয়েছিল। আমার সাথে তখন ছিলেন ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধ বিষয়ক সংবাদদাতা ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ।
”আমরা যেহেতু স্বাধীনভাবে ঘুরে বেরিয়ে পরিস্থিতি দেখার সুযোগ পেয়েছি, সেজন্য আমাদের সংবাদের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ হয়েছে। আমি ঢাকা থেকে রাজশাহী যাবার পথে সড়কের দুপাশে দেখেছিলাম যে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন মার্ক টালি। ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় সোনারগাঁও হোটেলে ‘স্মৃতি ৭১’ নামে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।
‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ পাওয়া আরেক ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিংও ছিলেন ওই অনুষ্ঠানে। তারা দুজন সেদিন মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা শোনান। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধ সংবাদদাতা সায়মন ড্রিং হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি বিশ্ববাসীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর বাঙালি নিধনযজ্ঞের খবর প্রকাশ করেছিলেন। ২০২১ সালের এপ্রিলে রোমানিয়ার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। সূত্র, বিডিনিউটটুয়েন্টিফোরডটকম

