সময়ের জনমাধ্যম

বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা জাপানের

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে। ছবি - সংগৃহীত

Last Updated on 48 seconds by zajira news

নিজস্ব প্রতিবেদক, জাজিরা নিউজ: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৬.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে জাপান।

ঢাকা ও টোকিওর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ বিনিয়োগের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি জানান, বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো ‘বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি অঞ্চল’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করা হবে। দুই দেশের যৌথ উন্নয়নের স্বার্থে এই উদ্যোগকে ‘সমৃদ্ধি ভাগাভাগি করার বিগ-বি’ ধারণায় এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি একমত হয়েছেন।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ লক্ষ্য সামনে রেখে শিগগিরই জাপানের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে বলেও জানান তাকাইচি।

চারটি স্তম্ভে গড়ে উঠবে কৌশলগত অংশীদারত্ব-
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের নতুন কৌশলগত সম্পর্ক চারটি মূল ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে। এগুলো হলো—আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহযোগিতা।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিরাপত্তা খাতেও বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে জাপানের আগ্রহের কথা জানান তাকাইচি। সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে টহল জাহাজ দেওয়ার নতুন সিদ্ধান্তের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

আঞ্চলিক সংযোগে বাংলাদেশের গুরুত্ব-
দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ তৈরিতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে জাপান। তাকাইচির মতে, এ দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে বাংলাদেশের সম্ভাবনা জাপানের অর্থনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।