সময়ের জনমাধ্যম

ভারতের অনুষ্ঠানে আসা ইরানি রণতরী ডুবায়, নয়াদিল্লির ওপর প্রশ্ন উঠেছে

ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো নিক্ষেপ করে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। এতে ৮৭ জন ইরানি নৌসেনা নিহত হয়েছেন।

Last Updated on 19 hours by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো নিক্ষেপ করে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সংঘটিত এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৮৭ জন ইরানি নৌসেনা নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে হামলার পর সমুদ্র থেকে অন্তত ৩২ জন সেনাকে জীবিত উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ভারত মহাসাগরে ইরানি জাহাজে এই টর্পেডো হামলাকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শত্রুপক্ষের ওপর এই ধরনের প্রথম আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অন্যদিকে ইরান এই ঘটনাকে একটি ‘বিনা উসকানিতে চালানো হামলা’ বলে দাবি করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

নয়াদিল্লির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’ সম্প্রতি ভারতের আয়োজনে একটি নৌমহড়ায় অংশ নিয়েছিল। মহড়া শেষ করে আন্তর্জাতিক জলসীমা হয়ে নিজ দেশে ফেরার পথেই এটি মার্কিন আক্রমণের শিকার হয়।

তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ভারতের অতি নিকটবর্তী জলসীমায় এমন একটি বড় ধরনের ঘটনা ঘটার পরও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে ভারতীয় নৌবাহিনী এক দিনের বেশি সময় ব্যয় করেছে। এই বিলম্ব এবং ভারতের ঘরের কাছের জলসীমায় অন্য দেশের এমন সামরিক তৎপরতা নয়াদিল্লির নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ভারতের অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ‘নিট সিকিউরিটি প্রোভাইডার’ বা নিরাপত্তা প্রদানকারীর ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে।

তারা বলছেন যে, মার্কিন সাবমেরিনের এই হামলা ভারতের নিজস্ব সামুদ্রিক আঙিনায় দেশটির প্রভাব ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্টভাবে উন্মোচিত করে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতকে এই অঞ্চলের ‘অভিভাবক’ হিসেবে যে দাবি করে আসছিলেন, এই হামলার ফলে তাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ভারতের দোরগোড়ায় বিদেশি শক্তির এমন আগ্রাসী ভূমিকা নয়াদিল্লির ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এই সংকটের ফলে ভারত মহাসাগরে শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে মেরুকরণ শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ ভারতের জন্য এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

একদিকে ইরান ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদার। এই দুই দেশের মধ্যকার এই সরাসরি সংঘাতের মধ্যে ভারতের দীর্ঘ নীরবতা এবং দেরিতে দেওয়া প্রতিক্রিয়া দেশটির কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

আগামী দিনে ভারত মহাসাগরে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে নয়াদিল্লিকে আরও সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী অবস্থান নিতে হবে বলে বিশ্লেষকরা মত দিয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা