সময়ের জনমাধ্যম

ভারতের আসামে বিমানবাহিনীর এএন-৩২ বিধ্বস্ত, ৫ সেনা নিহত

Last Updated on 43 seconds by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান শনিবার (১৩ জুন) সকালে আসামের যোরহাটে অবস্থিত বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে দুর্ঘটনায় পড়ে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় পাঁচজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।

বিষয়টি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিমান বাহিনী দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং তাদের পরিচয়ও প্রকাশ করেছে। নিহতরা হলেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু ড্যানিশ আলম।

আইএএফ’র এক পোস্টে বলা হয়েছে, সকাল ১০টার দিকে আসামের যোরহাটে একটি নিয়মিত উড্ডয়ন প্রশিক্ষণের সময় ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণ ও প্রাথমিক তদন্ত বর্তমানে চলছে। এ ঘটনায় প্রাণহানির জন্য ভারতীয় বিমান বাহিনী গভীরভাবে শোক প্রকাশ করছে এবং শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি অবতরণের সময় বিমান বাহিনী ঘাঁটির ভেতরেই বিধ্বস্ত হয় এবং এরপর আগুন ধরে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধার ও প্রতিক্রিয়া দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়, যাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যায়। তবে কী কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

বিমান বাহিনী এএন-৩২ দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, যোরহাটে ভারতীয় বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমানের দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। আমরা আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় আছি।

অ্যান্টোনভ এএন-৩২ একটি শক্তিশালী, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ সামরিক পরিবহন বিমান, যা ভারতীয় বিমান বাহিনীর ‘ওয়ার্কহর্স’ হিসেবে পরিচিত। এটি প্রথম সোভিয়েত ইউনিয়নে বিশেষভাবে ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি করা হয়। বর্তমানে আইএএফ প্রায় ১০০টি এই ধরনের বিমান পরিচালনা করে।

এএন-৩২ বিমানটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি কঠিন পরিবেশেও ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এটি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল এবং গরম ও আর্দ্র জলবায়ুতেও কার্যকরভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে সক্ষম। এই বিমানটি প্রায় ৭.৫ টন পর্যন্ত মালামাল, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন প্যারাট্রুপার বহন করতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় সরবরাহ পৌঁছে দেওয়ার কাজেও এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

এই দুর্ঘটনাটি ঘটল এমন সময়, যখন কয়েক মাস আগেই ভারতের বিমান বাহিনীর একটি সুখোই Su-30MKI যুদ্ধবিমান আসামের কার্বি আংলং জেলায় বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছিলেন।

গত ৫ মার্চ, দুই আসনের ওই যুদ্ধবিমানটি যোরহাট বিমান বাহিনী ঘাঁটি থেকে নিয়মিত উড্ডয়নের জন্য উড়েছিল। এরপর সন্ধ্যা ৭টা ৪২ মিনিটের দিকে এটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ হারায়। পরে আর সেটিকে ট্র্যাক করা সম্ভব হয়নি।

কর্মকর্তাদের মতে, বিমানটি শেষ পর্যন্ত যোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং জেলার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।