Last Updated on 2 hours by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: স্থানীয়দের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও মজুরি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদেশী বিশেষ ক্যাটাগরির কর্মীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মালয়েশিয়া সরকার।
তবে জানা গেছে, এ কড়াকড়ি বাংলাদেশী কর্মীদের ওপর তেমন প্রভাব ফেলবে না ।
২০৩৫ সালের মধ্যে মোট শ্রমশক্তিতে বিদেশিদের হার বর্তমানের ১৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এই ‘জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে সাধারণ ক্যাটাগরির শ্রমিক (পিএলকেএস) ভিসার নিয়ম আগের মতোই বহাল থাকবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, তিনটি প্রফেশনাল ক্যাটাগরিতেই ন্যূনতম বেতনের সীমা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে রয়েছে;
ক্যাটাগরি-১ (উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপনা): এই স্তরের কর্মীদের ন্যূনতম মাসিক বেতন হতে হবে ২০ হাজার রিঙ্গিত বা তার বেশি। চুক্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত এবং তারা স্ত্রী-সন্তান সাথে রাখার সুযোগ পাবেন।
ক্যাটাগরি-২ (মধ্যম পর্যায়ের পেশাদার): এই ক্যাটাগরিতে বেতনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে মাসে ১০ হাজার থেকে ১৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত। তারাও সর্বোচ্চ ১০ বছর অবস্থান করতে পারবেন এবং পরিবার আনার অনুমতি পাবেন।
ক্যাটাগরি-৩ (দক্ষ কর্মী): দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে মাসিক বেতন ৬ হাজার থেকে ৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিতের মধ্যে হতে হবে। তাদের ভিসার মেয়াদ হবে মাত্র ১ বছর (সর্বোচ্চ দুইবার নবায়নযোগ্য) এবং সাধারণত তারা পরিবার বা ডিপেনডেন্ট আনার সুযোগ পাবেন না।
অথ্যাৎ সাধারণ বিদেশী কর্মী বা শ্রমিকদের জন্য এই শর্ত প্রযোজ্য নয়। যাদের ওপর এই শর্ত আরোপ হবে তারা হলেন- প্রফেশনাল ক্যাটাগরির ডাক্তার, নার্স, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কোম্পানির পরিচালক, ম্যানেজার ইত্যাদি।
হঠাৎ নেয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘমেয়াদে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করা বিদেশি পেশাজীবীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
৫ থেকে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশটিতে থাকা অনেক প্রবাসী জানিয়েছেন, এই নীতি তাদের বাড়ি বা গাড়ি কেনা এবং স্থায়ী হওয়ার স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, অর্থায়ন ও তেল-গ্যাস খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত দক্ষ বিদেশিরা এখন বিকল্প হিসেবে ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর কথা ভাবছেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কঠোর নীতি মালয়েশিয়ায় ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি করতে পারে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডগলাস গ্যান জানান, চীন বা অন্যান্য দেশ থেকে আসা প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে এই উচ্চ বেতন কাঠামো অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।
মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য বিদেশি কর্মীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা নয়, তাদের নিয়োগ যেন স্থানীয় মেধার বিকাশে সহায়ক হয় তা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, গতকাল বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে সংশ্লিষ্ট সংবাদটিতে দেখা গেছে যে, মালয়েশিয়ায় বিদেশী সব কর্মীর জন্য বড় দুঃসংবাদ বা কড়াকড়ি আরোপ, যা সঠিক নয়।
মালয়েশিয়া মাহশা ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক বশির ইবনে জাফর বলেন, ‘নতুন এই শর্ত বাংলাদেশী সাধারণ শ্রমিকদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাছাড়া দেশটিতে প্রফেশনাল তিন ক্যাটাগরির ভিসাধারীর সংখ্যা খুবই কম।’
একাত্তর টিভির মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মোস্তফা ইমরান রাজু তার তার ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন , “দেশে বসে প্রবাসীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে কি মজা পায় গনমাধ্যমগুলো বুঝিনা ! কি একটা পাইছেন কঠিন হচ্ছে মালয়েশিয়া, দেশে ফিরতে হবে প্রবাসীদের, আরো কতো কিছু !! যে ক্যাটাগরি’র ভিসাধারিদের নিয়ে এই খবরটি আলোচনায় এসেছে সেই ক্যাটাগরিতে কতোজন প্রবাসী বাংলাদেশী থাকেন সেটা কি জানেন? তাহলে এমন শিরোনাম করে কেনো প্রবাসীদের বিভ্রান্ত করছেন? শুধু মাত্র লাইক, কমেন্ট আর ভিউ এর জন্য প্রবাসিদের হার্টের কম্পন আর বাড়ায়েননা ভাই। এমনিতেই এই প্রবাসীদের প্রতিটি দিন, ক্ষন আর সময় কাটে নানা ধরনের আতঙ্কে। মালয়েশিয়ায় যারা আছেন, সাংবাদিকতা করছেন, তারা কেউ কিন্তু এই খবরটি নিয়ে তেমন গুরুত্ব দেয়নি কারন তারা জানেন এবং বোঝেন এটা নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসিদের জন্য যার মধ্যে বাংলাদেশীদের সংখ্যা খুব বেশি নয়”।
আর টিভির মালয়েশিয়া প্রতিনিধি সৌরভ, তার ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন, “সারাবিশ্বের ১ লাখ ৪০ হাজার পেশাদার বিদেশি কর্মী রয়েছে মালয়েশিয়ায়। স্থানীয়দের সুযোগ দিতে এই সংখ্যা কমাতে চায় সরকার। তাছাড়া এসব বিদেশিদের মাধ্যমে মালয়দের ট্রেনিংয়ের আওতায় এনে দক্ষ বানানোরও পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। অথচ বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে “মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য দুঃসংবাদ, ফিরতে হতে পারে লাখ লাখ বাংলাদেশির” !

শেখ আরিফুজ্জামান নামে একজন লিখেছেন, “কপি পেস্টের যুগে দেশের মিডিয়াগুলো অধিকাংশই এক গুয়ালের। বিশ্বের ১ লাখ ৪০ হাজার পেশাদার বিদেশি কর্মী রয়েছে মালয়েশিয়ায়। স্থানীয়দের সুযোগ দিতে এই সংখ্যা তারা কমাতে চায়। যার ফলে কোম্পানির আন্ডারে প্রফেশনাল ভিসাধারী (১ম ক্যাটাগরী, দ্বিতীয় ক্যাটাগরি ও তৃতীয় ক্যাটাগরী) যেসব কর্মী আছেন তাদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধিসহ নানাবিধ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। অথচ “বাংলাদেশিদের জন্য দুঃসংবাদ, ফিরতে হতে পারে মালয়েশিয়া থেকে লাখ লাখ বাংলাদেশির” বলে গুজব ছড়াচ্ছে। মূলত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, আইটি কোম্পানিতে যারা চাকুরী করে তাদের জন্য এই আইন কার্যকর করা হবে। যে পরিমাণে বেতন ধার্যকরা হয়েছে প্রফেশনাল ভিসার ক্ষেত্রে, তাতে ওই কোম্পানি চাইলে বিদেশিদের বাদ দিয়ে কম বেতনে লোকাল কর্মী নিয়োগ করতে পারবে। সাধারণত লোকালদেরকে সুবিধা দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার।”
জাজিরা নিউজ এর মালয়েশিয়া প্রতিনিধি ও রেমিটেন্স যোদ্ধা জুম্মান হোসেন বলেন, মালয়েশিয়াতে প্রবাসীরা সবসময় বাংলাদেশের গনমাধ্যম গুলোর খবর খুব গুরুত্ব সহকারে দেখে। ভাল খবর পেলে যেমন প্রবাসিরা আনন্দিত হয়, তেমনি খারাপ খবর পেলেও তারা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ে।
কিন্তু যখন মিথ্যা কিংবা গুজব খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তখন সেই খবর পড়ে প্রবাসিরা আতঙ্কগ্রস্থ হওয়া খুবই কষ্টের বলে জানালেন প্রবাাসি রেমিটেন্স যোদ্ধা জুয়েল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রবাসিদের পরিবার-পরিজন সেই সমস্থ অসত্য খবরগুলো শুনে দুঃচিন্তায় থাকে।
বাংলাদেশের সমস্ত গনমাধ্যমগুলোকে ভাল করে যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়েছে মালয়েশিয়ার প্রবাসি বাংলাদেশিরা।


