Last Updated on 16 hours by zajira news
স্পোর্টস ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ শুক্রবার (২৩ অক্টোম্বর স্পেনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছেন লিওনেল মেসি।
জুনে প্রিন্সেস অব আস্তারিয়াস ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
জুরিবোর্ড তাঁকে ‘সর্বকালের সবচেয়ে সফল ফুটবলার’ হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি তাঁর সামাজিক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন।
স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় আস্তারিয়াস অঞ্চলের রাজধানী ওভিয়েদোতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ব্যাগপাইপ ও ঢোলের শব্দের মধ্যে মেসি পৌঁছালে আর্জেন্টিনার ফুটবল জার্সি পরা কয়েক ডজন সমর্থক উল্লাস ও তাঁর নাম ধরে স্লোগান দেন।
স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনরের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সনদ গ্রহণ করেন মেসি। তাঁর নামেই পুরস্কারগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। পরে প্রিন্সেস লিওনর মেসির ‘অনন্য ক্যারিয়ারের’ প্রশংসা করেন।
প্রিন্সেস লিওনর বলেন, ‘জানি না আর কোনো কিংবদন্তি সবাইকে একই অনুভূতিতে গাঁথতে পেরেছেন কি না। একটি মুহূর্ত, গোলের জন্য সবাই যখন অপেক্ষা করে, তখন সবাইকে এক সূত্রে গাঁথা হয়ে যায়। এ কারণেই মেসির দিকে এবং তাঁর অতুলনীয় ক্যারিয়ারে তাকানোটা অর্থবহ। এটি আমাদের সামনে আর্জেন্টাইন ফুটবলারের এক দারুণ সংজ্ঞা তুলে ধরে। স্পোর্তিং গিহনের এক সাবেক খেলোয়াড়ের ভাষায়, “তিনি মুহূর্তের দশ ভাগের এক ভাগে সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং অহংকারকে ছাপিয়ে দলগত চেতনাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।”’
পুরস্কার জয়ের পর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মেসি লেখেন, ‘ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড পাওয়াটা দারুণ সম্মানের। সব পুরস্কারজয়ীকে অভিনন্দন, আপনাদের সবার সঙ্গে দেখা হয়ে দারুণ সময় কেটেছে।’
বার্সেলোনায় ২১ বছর কেটেছে মেসির। ২০০০ সালে ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলে যোগ দিয়ে ২০২১ সালে চলে যাওয়ার আগে ক্লাব ফুটবলে এমন কোনো শিরোপা নেই যে জেতেননি। এই বার্সাতেই তাঁর বিশ্বসেরা হয়ে ওঠা। কাতালান ক্লাবটি ছেড়ে পিএসজিতে দুই বছর কাটিয়ে এখন ইন্টার মায়ামিতে ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ারে গোধূলিলগ্নে আছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি।

১৯৮১ সালে চালু হওয়া ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ স্প্যানিশভাষীদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। এর সঙ্গে ৫০ হাজার ইউরো প্রাইজমানি দেওয়া হয়। মানব সহাবস্থান, সংহতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রসারে শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।গত শুক্রবার পুরস্কার গ্রহণ করা অন্যান্য বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ লেখক জুলিয়ান বার্নস, মার্কিন মহাকাশচারী ক্রিস্টিনা কোচ এবং পাংক স্টার প্যাটি স্মিথ।
ক্রীড়াক্ষেত্রে এর আগে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদাল, ম্যারাথন রেকর্ডধারী এলিয়ুদ কিপচোগে এবং মার্কিন স্কিয়ার লিন্ডসে ভন।
স্পেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে ফেরার আগে রাজকীয় সংবর্ধনা পেয়েছেন মেসি। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে কোভাদোঙ্গা কক্ষে ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় সংবর্ধনায় অংশ নেন। রাজা এবং রানি ছাড়া এবারই প্রথম একা এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন প্রিন্সেস লিওনর।
অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্পেন জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেন এই কোচ। গত জুলাইয়ে শেষ হওয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিলেন দে লা ফুয়েন্তে। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।
মেসিকে নিয়ে স্পেন কোচ বলেন, ‘খেলাধুলা ও ফুটবলে মেসি যে ঐতিহ্য রেখে যাচ্ছেন, তা ব্যতিক্রমী। একজন মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বহু মূল্যবোধের এক অসাধারণ উদাহরণ।

