সময়ের জনমাধ্যম

লোডশেডিং দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

Last Updated on 11 hours by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ঝড়বৃষ্টিতে দুই দিন তাপমাত্রা কিছুটা কমার পর ফের দাবদাহের কবলে দেশ।

প্রতিদিন ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে তাপমাত্রার পারদ। দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে লোডশেডিং। চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে তাপমাত্রা অব্যাহত বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গরমে সবচেয়ে বিপদে আছে শ্রমজীবী মানুষ। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা দিনমজুর, রিকশাচালক ও নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমে গেছে।

অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কমে যাচ্ছে আয়। চিকিৎসকদের মতে, এই তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা ও বমিসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। শিশু ও বৃদ্ধরা রয়েছেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, জ্বর ও ত্বকের সমস্যার প্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে বৃদ্ধ ও শ্রমজীবীদের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

২০২৪ সালে টানা ৩৬ দিনের তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছিল দেশ। গরমে অনেক মানুষ মারা যায়। শুধু ২৮ এপ্রিল একদিনেই হিটস্ট্রোকে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর আসে। চলতি বছর গরমে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে গত ২ এপ্রিল বগুড়ায়। হিটস্ট্রোকে প্রাণ হারান আবু সামাদ (৫৫) নামের এক রিকশাচালক। গুগল ওয়েদার, অ্যাকুওয়েদার, দ্য ওয়েদার চ্যানেল এবং ভেন্টুস্কাইয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় আবহাওয়া মডেল ও ওয়েবসাইটগুলো আগামী ২১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশের তাপমাত্রা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে গরম ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি অনুভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাগুলো।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসেও ২০ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে তাপমাত্রা বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের পাশাপাশি তাপমাত্রা বাড়বে মধ্যাঞ্চলেও। দ্য ওয়েদার চ্যানেল ও অ্যাকুওয়েদারের পূর্বাভাস বলছে, ২১ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার বাতাস থাকবে চরম উত্তপ্ত। তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে। গুগল ওয়েদারে ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার জন্য ‘এক্সেসিভ হিট’ বা চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা দেখানো হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা জানান, ঝড়বৃষ্টির কারণে আজ দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও আগামীকাল বাড়তে পারে। ২০ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়তে পারে। এদিকে তাপপ্রবাহের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলেও সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গরমে আরও কষ্ট বাড়িয়েছে লোডশেডিং। তীব্র গরমে এসির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। সেই সঙ্গে জ্বালানি সংকটে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এতে গ্রামীণ এলাকায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

ঢাকাতেও বাড়তে শুরু করেছে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া। গরমের মধ্যে লোডশেডিং জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নোয়া) সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কখনো তীব্র গরম, আবার হঠাৎ দেখা দিতে পারে বজ্রঝড়।

Reendex

Must see news