সময়ের জনমাধ্যম

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়াগামী ৭১ যাত্রী উধাও

Last Updated on 36 seconds by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইটকে ঘিরে রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। বোর্ডিং পাস সংগ্রহ এবং ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও শেষ মুহূর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠেননি ৭১ জন যাত্রী।

এর আগে বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ভিসা জাল বলে শনাক্ত হওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে।

ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী শনিবার (৪ জুলাই) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটটি রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটিতে মোট ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৭৬ জন যাত্রী বিমানে ওঠেননি।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডিং গেটে পাঁচজন যাত্রীর ই-ভিসা জাল বলে শনাক্ত হয়। এরপর বোর্ডিং লাইনে থাকা আরও অনেক যাত্রী হঠাৎ সরে যান। পরে তাদের অনেকেই ইমিগ্রেশনের প্রস্থান সিল বাতিল করে আবার দেশে প্রবেশ করেন। সব মিলিয়ে ৭১ জন যাত্রী শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছায় বিমানে না ওঠার সিদ্ধান্ত নেন।

সূত্র আরও জানায়, ওই ৭৬ জনের ভিসা যথাযথভাবে যাচাই ছাড়াই চেক-ইন কাউন্টার থেকে “ভেরিফায়েড” হিসেবে গ্রহণ করে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়েছিল। পরে ইমিগ্রেশনও তাদের বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়। কিন্তু বোর্ডিং গেটে গিয়ে পাঁচজনের জাল ই-ভিসা ধরা পড়ে।

ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, ভিসা যাচাইয়ের একাধিক ধাপ থাকার পরও কীভাবে সন্দেহভাজন জাল ভিসাধারীরা চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন পার হয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হলেন।

বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিমানে না ওঠা ৭৬ জনই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। তবে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে দেশটিতে গিয়ে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বোর্ডিং চলাকালে কয়েকজন যাত্রীকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। পরে তাদের ভিসায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে লাইনে থাকা আরও কয়েকজন যাত্রী সেখান থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অফলোড করা হলে বোর্ডিং গেট এলাকায় উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।