সময়ের জনমাধ্যম

হিমঘরে হাদি কফিনবন্দি, দেশজুড়ে প্রতিবাদের উত্তাপ

Last Updated on 5 months by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: শরীফ ওসমান বিন হাদির মরদেহ যখন কফিনে করে হাসপাতালের হিমঘরে নেওয়া হচ্ছিল, তখন ক্ষণে ক্ষণে প্রধান ফটকের বাইরে এ হত্যার প্রতিবাদের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছিল ।

অগুনিত মানুষের ভিড়ের মধ্যে বিমানবন্দর থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সটি একটু একটু করে এগিয়ে যায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরের দিকে আর সরব হতে থাকে স্লোগান।

সিঙ্গাপুর থেকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর বৃহস্পতিবার রাতে যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল সেটি অব্যাহত ছিল শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দিনজুড়েই। হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা বাদ যায়নি এদিনও। জুমার নামাজের পর বিক্ষোভকারীদের আহ্ববানে ভরে ওঠে রাজধানীর অনেক সড়ক-এলাকা। শুক্রবারও শাহবাগ ছিল উত্তাল।

ছুটির এ দিনটাতেও দুই সংবাদপত্র কার্যালয় ও ছায়ানট ভবনে আক্রমণ-আগুনের রেশ রয়ে যায়। এ তিন স্থানে হামলা নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ আর সরকারের আবারও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতির মধ্যে প্রথম আলোর কার্যালয়ের সামনের মানববন্ধন বাধাপ্রাপ্ত হয়। বাকবিতণ্ডার মধ্যে মাঝপথে সংবাদকর্মীদের এ কর্মসূচিতে বিরতি দিতে হয়।

এদিন দুপুরে আরও এক দফা ভাঙচুর চালানো হয় আগের কয়েক দফায় গুঁড়িয়ে দেওয়া ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে।

এরপর সন্ধ্যায় আবার রাজধানীতে আগুনের খবর আসে, উদীচী কার্যালয়ের সব কিছু পুড়ে যায় আধা ঘণ্টার এক অগ্নিকাণ্ডে।

তবে হাদির মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে পৌঁছানোর ঘণ্টা দুয়েক পর রাত সাড়ে ৯টায় শাহবাগের ‘আগ্রাসনবিরোধী সমাবেশ’ থেকে এদিনের মত কর্মসূচি ইতি টানা হলে উত্তেজনা আর প্রতিবাদের উত্তাপ কিছুটা কমে আসে।

এর আগে হাদির মৃত্যুর ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়েই। বিক্ষোভ মিছিলে প্রকম্পিত হয়েছে একের পর এক জেলা। প্রতিবাদ সমাবেশ যেমন হয়েছে, তেমনি আওয়ামী লীগের কার্যালয় আর নেতাদের বাসা বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকটি জেলায় হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধও করেছেন বিক্ষুব্ধরা।

এছাড়া কয়েকটি জেলায় ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা ও তার জন্য দোয়ার আয়োজনও করেছে মানুষ।

হাদির লাশের সঙ্গে সিঙ্গাপুর থেকে আসেন তার বড় ভাই আবু বকর। বিমানবন্দরে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো হাদির কফিন বুঝে নিতে উপস্থিত ছিলেন তার বোন-জামাই আমিরুল ইসলাম এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।

শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেট দিয়ে হাদির কফিনবাহী গাড়িটি যখন বেরিয়ে আসে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিপুল সংখ্যক মানুষ।

ইনকিলাব মঞ্চ এক ফেইসবুক পোস্টে লিখেছে, পরিবারের দাবির ভিত্তিতে তাদের সংগঠনের আহ্বয়ককে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দুপুর ২টায় জানাজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানাজার পর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মব তৈরি করে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের একটা অংশ বলে মনে করছেন।

বিএনপি ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় বলে তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দেশে মব, হামলা, ভাঙচুর এগুলো একটা ব্লু প্রিন্টের অংশ বলেই আমরা মনে করি।”

এসব কর্মকাণ্ডেরা মাধ্যমে বাংলাদেশে “উগ্রবাদকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা” করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মির্জ ফখরুল বলেন, “তবে বাংলাদেশে জোর করে চাপিয়ে, মব সৃষ্টি করে কিছু করা যাবে না। কারণ বাংলাদেশের উদার সংস্কৃতিতে এটা সম্ভব না”। এসব সহিংসতাকে “নির্বাচন ঠেকানোর অপচেষ্টা” বলেও বিএনপি মনে করছে বলে জানান মির্জা ফখরুল

জুলাই অভ্যুত্থানে অনুপ্রাণিত হয়ে গঠন করা প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ তার প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম হাদির হত্যার বিচারের দাবি জারি রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এ দাবিতে ‘খুব দ্রুতই’ তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। সেই ঘোষণা ছাড়া অন্য কারো কোনো নির্দেশনা বা প্ররোচনার ফাঁদে না পড়ার অনুরোধ জানানো হয়।

ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সাঈদ হাসান গনমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের কর্মসূচি এখনো ফাইনাল হয়নি। আলোচনা চলছে। ফাইনাল হলে আমরা ইনকিলাব মঞ্চ ফেসবুক পেইজে জানিয়ে দিব।