সময়ের জনমাধ্যম

হত্যা মামলায় সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুনকে ৫ দিনের রিমান্ড

Last Updated on 3 hours by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদ রিমান্ডের আদেশ দেন।

বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আওয়ামী লীগের ৫০০-৭০০ নেতাকর্মী হামলা চালায়। এসময় শেখ মামুন খালেদের আদেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।

আবেদনে বলা হয়, সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, শেখ মামুন খালেদের জড়িত থাকার বিষয়ে ‘পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ’ পাওয়া যাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, অচেনা আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামির পক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম পাখি রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

শুনানি নিয়ে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানান। গত সোমবার রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ২০০৭-০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

তাকে মঙ্গলবার মানবপাচারের মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার একদিন পরেই তখনকার আরেক প্রভাবশালী সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগসহ এক-এগারোর সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মামুনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

সিগন্যালস কোরের কর্মকর্তা হিসেবে শেখ মামুন ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ডিজিএফআইতে পরিচালক (এফএসআইবি) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০০৮ সালের জুনে তিনি ব্রিগেডিয়ার চৌধুরী ফজলুল বারির স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিচালকের (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর-সিআইবি) দায়িত্ব পালন করেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবরের উত্তরসূরি হিসেবে শেখ মামুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডিজিএফআইতে ফিরে আসেন। প্রায় দেড় বছর এই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন মেজর জেনারেল আকবর হোসেন।

সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় শেখ মামুন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপাচার্য ছিলেন। পরে অবসরে যাওয়ার আগে তিন তারকা জেনারেল হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লায় কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের মে মাসে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রীসহ শেখ মামুন খালেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আদালত। তখন দুদক তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদসংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।