সময়ের জনমাধ্যম

মালয়েশিয়ার জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে অনুমতি দিয়েছে ইরান : আনোয়ার ইব্রাহিম

Last Updated on 1 hour by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তেহরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার মধ্যে মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ তথ্য জানিয়েছেন।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেতে ‘দ্রুত ছাড়পত্র’ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ জন্য তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান।

তেহরানের নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত জাহাজ চলাচলের জন্য সীমিত হয়ে পড়েছে। সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ করা মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন হয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কাজ চলছে। তবে কতটি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বা কোন শর্তে সেগুলোকে নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

আন্তর্জাতিক বিষয়ে ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণকারী মালয়েশিয়া সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মালয়েশিয়াও প্রভাবিত হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনাসের সক্ষমতার কারণে দেশটি অন্য অনেক দেশের তুলনায় ‘ভালো অবস্থায়’ আছে।

বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি সরবরাহকারী দেশ হলেও মালয়েশিয়া তাদের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সরকার ভর্তুকিযুক্ত পেট্রলের ব্যক্তিপ্রতি মাসিক বরাদ্দ কমানো, সরকারি কর্মচারীদের ধাপে ধাপে বাসা থেকে কাজের আওতায় আনার মতো পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, খাদ্য সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ছে, দাম বাড়বে সার ও জ্বালানিরও। তাই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এমন অনেক দেশ আছে, যাদের ওপর এর প্রভাব মালয়েশিয়ার চেয়ে অনেক বেশি। তবে তার অর্থ এই নয়, মালযেশিয়া পুরোপুরি প্রভাবমুক্ত।

ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়—এমন জাহাজের জন্য প্রণালি খোলা আছে। তবে তেহরান এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথা বলছে।

ইরানের পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালিতে টোলব্যবস্থা চালুর একটি আইন প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে খবর এসেছে, নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে কিছু জাহাজের কাছে ইরানি কর্তৃপক্ষ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ দাবি করছে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পাঁচটি জাহাজকে প্রণালি অতিক্রম করতে দেখা গেছে। এর আগের দিন চারটি জাহাজ অতিক্রম করেছিল। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ এ পথ দিয়ে চলাচল করত।