সময়ের জনমাধ্যম

এক দিনেই ২ যুদ্ধবিমান, ৫ ড্রোন, ২ হেলিকপ্টারে আঘাত হানল ইরান

এক দিনেই ২ যুদ্ধবিমান, ৫ ড্রোন, ২ হেলিকপ্টারে আঘাত হানল ইরান

Last Updated on 21 mins by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরান যুদ্ধের ৩৫তম দিনে গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির আকাশসীমায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এদিন ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, পাঁচটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার পাশাপাশি দুটি সামরিক হেলিকপ্টারে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো দিনটিকে ‘মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পূর্বনির্ধারিত ছুটি বাতিল করে বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। তার এই সাপ্তাহিক ছুটি ফ্লোরিডায় নিজের বাড়িতে কাটানোর কথা ছিল।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, খোমেইন ও জানজান প্রদেশের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইসফাহানের আকাশে দুটি ‘এমকিউ-৯’ অ্যাটাক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া বুশেহর প্রদেশের আকাশে একটি ‘হার্মিস’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুরুতে ক্ষয়ক্ষতি অস্বীকার করে সব বিমান অক্ষত থাকার দাবি করলেও পরবর্তীতে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে ইরান। এর পরপরই মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করে যে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এফ-১৫ই’ (F-15E) মডেলের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে থাকা দুজন ক্রুর মধ্যে পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও কো-পাইলট এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

একই দিনে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ‘এ-১০ ওয়ার্টহগ’ (A-10 Warthog) ক্লোজ সাপোর্ট কমব্যাট বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই বিমানেরও একজন ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন এবং অন্যজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ট্র্যাকিংয়ের মুখে পড়ে বিমানটি সাগরে আছড়ে পড়ে।

নিখোঁজ সেনাসদস্যদের উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানেও বাধার মুখে পড়েছে মার্কিন বাহিনী। নিখোঁজ সেনাকে খুঁজতে যাওয়া দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে গুলি চালানো হয়। তবে হেলিকপ্টারগুলো বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই অভিযান চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ঘোষণা করা হয়েছে যে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটদের জীবিত ধরে দিতে পারলে সাধারণ মানুষকে পুরস্কৃত করা হবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত না করলেও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, উদ্ধার অভিযান বর্তমানে চলমান রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির আপডেট জানানো হচ্ছে।

এর আগে গত ১৯ মার্চ ইরান প্রথমবারের মতো মার্কিন বিমান বাহিনীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ ‘এফ-৩৫ লাইটনিং ২’ স্টিলথ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার দাবি করেছিল। আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘মজিদ ইনফ্রারেড-গাইডেড সিস্টেম’ ব্যবহারের মাধ্যমে তারা এই সাফল্য পেয়েছে।

বাহিনীর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, তাদের অব্যাহত নজরদারি ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির কারণে ইরানের আকাশসীমা শত্রুপক্ষের জন্য ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠবে।