সময়ের জনমাধ্যম

শাপলা চত্বর ও ৫ আগস্টের ঘটনায় বিচার-মর্যাদা পুনরুদ্ধারে সভা অনুষ্ঠিত

Last Updated on 7 hours by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্যাসিবাদ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, দায় নির্ধারণ এবং ভুক্তভোগীদের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দাবিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

গুম হওয়া পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ এবং ভিকটিম অ্যান্ড ভেটেরান নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’র প্রধান সমন্বয়ক এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি।

সভায় বক্তারা অতীতের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে যখন শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে।

সরকার গঠন করার দুই মাসের মধ্যে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। পিলখানা ম্যাসাকারের নাম দিয়ে তখন তাদের হত্যা করা হয়।

সেনা কর্মকর্তাকে বিভৎসভাবে হত্যা করা হয় এবং শত্রুগুলোকে ধামাচাপা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় তা মূলত সামনে নির্বাচনে ফের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে সেটা করা হয়েছিল। আর ঠিক সেই সময়টাতেই আমাদের সব বিরোধীদলীয় নেতা বা সংগঠক যারা ছিল আমার ভাইদের মত তাদের জোরপূর্বক গুমের শিকার হতে হয়। সারা ঢাকায় বাংলাদেশের প্রত্যেকটা জেলায় আমরা দেখতে পাই সেটা শুধুমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল না প্রত্যেকটা বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের এবং এখানে আমরা অনেক সাধারণ মানুষকেও ভিকটিম হতে দেখেছি চৌধুরী আলম ভাই থেকে শুরু করে ইলিয়াস আলী ভাই পর্যন্ত শুরুটা হয় তাদের মধ্য দিয়ে এবং যখন ৫ মে ২০১৩ সালের শাপলায় একত্রিত হওয়া।

তিনি বলেন, একদিন আগে ৪ মে ১৮ দলীয় জোটের নেতৃত্বে সেখানেই আরেকটা সমাবেশ হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বিরোধীদলীয় নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ডাকে সেখানে ১৮ দলীয় জোট সেখানে একত্রিত হয়েছে এবং খুব শক্তভাবে খালেদা জিয়া ওই সমাবেশে বলেছিলেন যে আমার চৌধুরী আলাম, ইলিয়াস আলীকে ফেরত দিতে হবে এবং ওই ৫ মে সেই সমাবেশ হয় শাপলা চত্বরে। সমাবেশে সুমন আমার ভাইসহ আরো অনেক ভাই পরবর্তীতে যারা গুম হয়েছে। যারা বিচার অভিভূত হত্যার শিকার হয়েছে। এরকম হাজারো ভাই সেই সমাবেশে শামিল ছিলেন। সেদিন খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্যের পরে ইলিয়াস আলী ভাইয়ের সন্ধান চাওয়ার পরে প্রাইম মিনিস্টার অফিস থেকে পরের দিনের হেডলাইনে এসেছিল যে ইলিয়াস আলী খালেদা জিয়ার নির্দেশেই আসলে লুকিয়ে আছে কোথাও এবং আমরা এটাও বলতে চাই বেগম খালেদা জিয়া ওই সমাবেশে একটা কথা বলেছিলেন সেটা হচ্ছে নির্দলীয় সরকারের দাবি। এ সময় দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে সংলাপের নাটক করা বন্ধ করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি তার বক্তব্যে বলেছিলেন যে হেফাজতের ৫ মে কর্মসূচিতে বাধা দেবেন না। বাধা দিলে পরিণতি ভয়াবহ হবে।

তিনি আরও বলেন, শাপলা ম্যাসাকারে পরে গুম বিচার বহির্ভূত হত্যা এবং এসব হত্যাযজ্ঞের মধ্যে যেখানে পুলিশ, র‌্যাব, বিজেবির কয়েক হাজার সদস্য শাপলা চত্বরে সেদিন সারারাত ঘিরে রেখেছিল। রাত হওয়ার আরো অনেক আগে আলোতে শাপলাচত্বরে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। সে সময় অনেক আন্দোলনকারীকে পুলিশের সামনে হেনস্তা করা হয়। শারীরিক নির্যাতন করা হয়, হত্যা করা হয়।

তুলি বলেন, মধ্যরাতের দিকে শাপলা চত্বর এলাকায় আশেপাশের সবগুলো বাতি নিভিয়ে দেওয়া হয়। তারপর শুরু হয় নারকীয় দমন। পুলিশ ও বিজিবি বিভিন্ন দিক থেকে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করে। সেদিনের ছবিগুলো আমরা দেখতে পাই। বিশ্লেষণ করে দেখা যায় রাস্তায় পড়ে থাকা বেশিরভাগ আন্দোলনকারীর জামার পুরোটাই ছিল রক্তে ভেজা শাপলাচত্বরের সেই রাতে বেঁচে ফেরা ভুক্তভুগীদের কাছে অভিজ্ঞতাটা ছিল ভীষণভাবে নারকীয়। শাপলা চত্বরের সেই রাতে বেঁচে ফেরা ভুক্তভোগীদের কাছে অভিজ্ঞতাটা ছিল ভীষণভাবে নারকীয়, চোখের সামনে তারা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সেই দমন-পীড়ন প্রত্যক্ষ করেছেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শাপলা চত্বরে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী রেহানের বোন ফারিয়া, শাপলা চত্বরে নিহত শহীদ আলমগীরে স্ত্রী, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মুফতি মালেক, গুমের শিকার নুর হোসেন নুরের মেয়ে নাবিলা নুর, শাপলা চত্বরের হামলায় পা হারানো মো. রাশেদুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী, গবেষক, লেখক রেজা রহমান প্রমুখ।