Last Updated on 28 seconds by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের যোগদানের উদ্দেশ্য পরিচালনা পর্ষদের সভা ডেকেছিল ব্যাংকটি। তবে গ্রাহকদের আন্দোলনের কারণে সশরীর সেই সভাটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। পরে অনলাইনে সভা করার অনুমোদন নেয় বাংকটি। তবে গ্রাহকদের চাপে অনলাইনেও সভাটি করা যায়নি।
সশরীরে বসতে না পেরে সোমবার (০১ জুন) দুপুর আড়াইটায় অনলাইনে এ সভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তাতেও বাধা দেন।
গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিরোধিতায় সোমবার সকালে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি।
তারা ব্যাংকের সদ্য পদত্যাগকারী চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানের পুনর্বহালেও দাবিও তোলেন।
জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত প্লাটফর্মটির সদস্যদের সকাল ১০টার আগ দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। তারা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ছোড়ার পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করেন।
এই আন্দোলনের কারণে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের পূর্বনির্ধারিত পর্ষদ সভাটি অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের সোমবার সকালে প্রধান কার্যালয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু আন্দোলনের কারণে তিনি ফিরে যান। পরে সভাটি অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামী ব্যাংক।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) আলতাফ হুসাইন সাংবাদিকদের বলেন, “পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অনলাইনে সভাটি করার অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।”
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কয়েক দিন ধরে আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারের কারণে আশঙ্কা করেছিলাম, পরিস্থিতি স্বাভাবিক নাও হতে পারে। সকাল থেকে পরিস্থতি অনূকুল না হওয়ায় প্রথম বোর্ড মিটিংটি জুমের মাধ্যমে করার অনুমতি দেওয়া হয়।”
তবে গ্রাহকদের দাবিতে অনলাইনেও পরিচালক পর্ষদের সভাটি করা সম্ভব হয়নি। অনলাইনে সভা হবে জানতে পেরে আন্দোলনকারীরা ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যালয়ের ফ্লোরে অবস্থান নেন। আরো কয়েকটি ফ্লোরেও অবস্থান নেন তারা। পর্ষদ সভা হওয়ার কক্ষের সামনেও ছিলেন তারা।
আন্দোলন ও পর্ষদ সভার বিষয়ে জানতে বিকালে সাংবাদিকরা হাজির হন ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের ১৪ তলায়। সেখানে আলতাফ হুসাইন বলেন, “আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে অনলাইনেও পরিচালক পর্ষদের বৈঠকটি করা হয়নি।”
স্থগিত হওয়া পর্ষদ সভার নতুন কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘পর্ষদ সভা ডাকার সিদ্ধান্ত দেন চেয়ারম্যান। তিনি তারিখ জানালে কোম্পানি সচিব পর্ষদ সভার আয়োজন করবেন।”
আলতাফ হুসেইনের কক্ষের বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী নাসির উদ্দিন ভুইঞা রতন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘২০১৭ সালের মতো ফের ব্যাংক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। জুম মিটিং করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমডির রুমে (আলতাফ হুসাইন) প্রশাসনের লোকজন আছে, তারা চাপ দিচ্ছে। আমরা কোনো মিটিং করতে দিব না এই চেয়ারম্যানকে।”
আলতাফ হুসেইনের কক্ষে তখন মতিঝিল জোনের দুই পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। এর মধ্যে মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার এসএম মিজান বলেন, ‘‘আমি সকাল থেকে এখানে আছি। আমরা আসছি পরিস্থিতি অনুযায়ী আলোচনা করতে। কোনো প্রকার চাপ দিচ্ছি না মিটিং করতে। আপনারা জিজ্ঞেস করতে পারেন।’’
তখন আলতাফ হুসেইন বলেন, ‘‘জুম মিটিং করতে কেউ বাধ্য করছে না। কোনো পক্ষ থেকে চাপ নেই।’’


