Last Updated on 34 seconds by zajira news
ধর্ম ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার কাবা শরিফ ধৌতকরণের কার্যক্রম আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নিখাদ আধ্যাত্মিক আবহের মধ্য দিয়ে এই পবিত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
রাষ্ট্রীয় এই ধৌতকরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই মক্কায় পবিত্র হারামাইন কর্তৃপক্ষের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল রাতে এশার নামাজের পর পবিত্র কাবার প্রধান দরজার গিলাফের নিচের অংশটি ভাঁজ করে ওপরে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে ধৌতকরণের দিন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ভেতরে যাতায়াতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে। মূলত প্রতি বছর ফজরের নামাজের পরপরই এই ঐতিহাসিক ধৌতকরণ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
পবিত্র কাবা শরিফ ধৌতকরণের এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ইসলামি চিন্তাবিদ, বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত এবং সৌদি আরবের ঊর্ধ্বতন সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে থাকেন।
ঐতিহ্য ও প্রটোকল অনুযায়ী, সৌদি আরবের বাদশাহ অথবা তার নিযুক্ত কোনো বিশেষ উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি (যেমন মক্কার গভর্নর) এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। কাবার ভেতরের দেওয়াল ও মেঝে ধোয়ার এই পবিত্র কাজটি একইসঙ্গে একটি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক মহান দায়িত্ব হিসেবে গণ্য হয়, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে এক বিশেষ আবেগ ও শ্রদ্ধার স্থান দখল করে আছে।
এই ধৌতকরণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ পানির পরিবর্তে অলৌকিক গুণসম্পন্ন জমজমের পবিত্র পানি এবং সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত অত্যন্ত মূল্যবান উদ ও খাঁটি গোলাপ জল ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে সৌদি আরবের তায়েফ অঞ্চলের বিশ্বখ্যাত বাগান থেকে অত্যন্ত যত্নসহকারে সংগৃহীত গোলাপ পাপড়ি দিয়ে এই বিশেষ গোলাপ জল তৈরি করা হয়। কাবার ভেতরের দেওয়াল ও মেঝে ধুয়ে সুবাসিত করার জন্য এবার দুটি বিশেষ রৌপ্যপাত্রে ৪০ লিটার জমজমের পানি রাখা হয়েছে। এরসঙ্গে মিশ্রিত করা হবে ৫৪০ মিলিলিটার তায়েফি গোলাপ জল, ২৪ মিলিলিটার প্রিমিয়াম কোয়ালিটির গোলাপ তেল, ২৪ মিলিলিটার খাঁটি উদ তেল এবং তিন মিলিলিটার কস্তুরী। এই সুগন্ধি মিশ্রণ দিয়ে কাবার ভেতরের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচ্ছন্ন ও সুবাসিত করা হয়।
সাধারণত বছরে দুইবার কাবা শরিফ ধোয়ার এই পুণ্যময় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রথমবার পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার ঠিক আগে এবং দ্বিতীয়বার পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর মহররম মাসের শুরুতে। কাবার ভেতরে সাধারণ মানুষের প্রবেশের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এই ধৌতকরণ উৎসবের ছবি ও ভিডিও চিত্র যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের মনে এক গভীর আধ্যাত্মিক তৃপ্তি ও পরম আবেগের আবহ তৈরি করে।


