সময়ের জনমাধ্যম

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল শিক্ষার্থীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম

ছবি- সংগৃহীত

Last Updated on 4 hours by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এ ঘটনার পর মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ঢাকা-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমানকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানো।

ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের সোনাটেংরা গ্রামে ঘটে।

জানা গেছে, শান্তিপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ফারিমের সঙ্গে গত বুধবার (১৭ জুন) বিদ্যালয়ে সহপাঠী ইয়াছিন মোল্লার তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এরপর একই দিন ফারিমের মা শিউলি খানম ইয়াছিনের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা হালিম মোল্লার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাব দেন। তবে হালিম মোল্লা তা প্রত্যাখ্যান করে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরদিন ১৮ জুন টিফিন বিরতির সময় বাড়ি ফেরার পথে ইয়াছিন মোল্লাসহ কয়েকজন মিলে ফারিম ও তার খালাতো ভাই সিজানের গতিরোধ করে। পরে ধারালো দা দিয়ে ফারিমের মাথায় কোপ দেওয়া হয় এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। হামলার সময় তার হাতে থাকা একটি স্বর্ণের আংটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবি- সংগৃহীত

এ ঘটনায় গত বুধবার (২৫ জুন) ফারিমের মা শিউলি খানম সিংগাইর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইয়াছিন মোল্লা, তার বাবা হালিম মোল্লা, ভাই শীতল মোল্লা, চাচা লুৎফর মোল্লা ও মজিবর মোল্লা, চাচী শিল্পী আক্তার, মা রোজিনা আক্তার এবং রাশেদা নামে এক নারীকে আসামি করা হয়।

মামলার পর আসামিপক্ষ অভিযোগ তোলে, বাদী শিউলি খানমের মা মোসাম্মৎ নাসিমা ঢাকা-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং তার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় মানুষকে হয়রানি করেন।

তবে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সরেজমিন অনুসন্ধানে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোসাম্মৎ নাসিমা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে প্রায় ২২ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত। তার স্বজন ও স্থানীয়রাও জানান, তিনি আমানউল্লাহ আমানের বাসার গৃহকর্মী নন এবং তার প্রভাব খাটানোর অভিযোগও সঠিক নয়।

আব্দুল মালেক নামে একজন জানান বলেন, দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা হয়েছিল। তবে নাসিমা সরকারি চাকরি করেন। তিনি আমানউল্লাহ আমানের প্রভাব খাটান—এমন কোনো ঘটনা তাদের জানা নেই।

ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তানভীর সর্দার, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তৈয়ব আলী, স্থানীয় সোহরাব মাদবর, রোকসানা আক্তার, আসিফ ইকবালসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, নাসিমা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিতে কর্মরত। তিনি আমানউল্লাহ আমানের বাসার গৃহকর্মী নন এবং তার প্রভাব খাটানোর অভিযোগেরও কোনো ভিত্তি নেই। পরিকল্পিতভাবে বিএনপির দুর্নাম করতে এমপি আমানউল্লাহর নাম জড়ানো হয়েছে। এসময় তারা বিএনপির একজন এমপিকে নিয়ে মিথ্যাচারের বিচার দাবি করেন।

মোসাম্মৎ নাসিমা নিজের সরকারি পরিচয়পত্র দেখিয়ে বলেন, “আমি ২২ বছর ধরে সরকারি চাকরি করছি। আমানউল্লাহ আমানের বাসায় কাজ করি না। আমার কোনো ছেলে সন্তানও নেই। বৃদ্ধ স্বামী ও মেয়েদের নিয়ে বসবাস করি। প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে এবং এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন বলেন, আমানউল্লাহ আমান বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা, তিনি এ দেশের একজন রত্ন। তিনি বা তার স্ত্রী এ ঘটনায় কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করেননি। তারা এ ঘটনার পর ফোনও দেননি। এ ঘটনায় তাদের নাম জড়ানো ঠিক হয়নি। এটা অন্যায় হয়েছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফজলুল হক এবং সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান, তার স্ত্রী কিংবা পরিবারের অন্য কেউ এ ঘটনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেননি।

তারা বলেন, এক পক্ষের হামলায় একজন কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে ঘরে আগুন লাগানোর অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।