সময়ের জনমাধ্যম

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের টার্গেট করে যৌন ব্যবসা, আটক ২৩

Last Updated on 15 hours by zajira news

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি, জাজিরা নিউজ: মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেন্দ্র করে পরিচালিত একটি অবৈধ পতিতাবৃত্তি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (ইমিগ্রেশন বিভাগ)।

যৌথ অভিযানে চক্রটির মূলহোতা এক বাংলাদেশি পুরুষ ও তার থাই সঙ্গিনীসহ মোট ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে কুয়ালালামপুরের জ্বালান কুচাই লামা এবং জ্বালান গেলুগোর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান।

পতিতাবৃত্তির সাথে জড়িত সন্দেহে মোট ২৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে—যাঁদের মধ্যে তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ এবং ২০ জন নারী।

আটককৃত নারীদের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি, ১৪ জন ইন্দোনেশিয়ান, ২ জন ভিয়েতনামি এবং ১ জন মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া প্রাঙ্গণ পরিচালনা ও পাহারার দায়িত্বে থাকা এক মালয়েশীয় পুরুষকে (যিনি ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে কাজ করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে) আটক করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, আবাসিক ভবনে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৬০ মিনিটের জন্য ২০০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো, আর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ৯০ মিনিটের জন্য এই ফি ছিল ২৬০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘ দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর রাত প্রায় ১০টা ৫০ মিনিটে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চক্রটি পরিচালনাকারী এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক থাইল্যান্ডের নারী এবং প্রাঙ্গণ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এক স্থানীয় মালয়েশীয় নাগরিক।

অভিযানের সময় আটককৃতদের কাছে কোনো বৈধ ভ্রমণ নথি বা মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমোদন ছিল না।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টা ৫০ মিনিটে জ্বালান কুচাই লামার একটি আবাসিক ভবন এবং জ্বালান গেলুগোরের কাছে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই কার্যক্রম উন্মোচন করা হয়। জনগণের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্য এবং দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর এই অভিযান চালানো হয়।

কর্মকর্তারা জানান, ক্লাং ভ্যালি এলাকায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি গ্রাহকদের লক্ষ্য করেই মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে এই অসাধু ব্যবসা চালানো হতো। চক্রটি আবাসিক এবং বাণিজ্যিক ভবন ভাড়া নিয়ে বিদেশি নারীদের দিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি ও থাই দম্পতি মূলত নারী কর্মীদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে তাদের চলাফেলা নিয়ন্ত্রণ করত।

অভিযানকালে মালয়েশীয় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ৪টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ১টি থাই পাসপোর্ট, ১টি ইন্দোনেশিয়ান পাসপোর্ট, বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন, কনডম এবং অনৈতিক কাজ থেকে অর্জিত নগদ ১,২১৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জব্দ করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি ও থাই দম্পতিসহ স্থানীয় কেয়ারটেকারকে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এর ধারা ৫৬(১)(ডি) অনুযায়ী আটক রাখা হয়েছে। অন্য বিদেশি নাগরিকদের ধারা ৬(১)(সি)-এর অধীনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তে সহায়তার জন্য আরও ৭ জন স্থানীয় মালয়েশীয় নাগরিককে ইমিগ্রেশন বিভাগে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।